খোয়াই, ত্রিপুরা। ১৪ জুলাই ২০২৫ঃ ত্রিপুরার খোয়াই জেলার সাধারণ মানুষ আবারো আতঙ্কিত। ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে চুরির ঘটনা। গতকাল গভীর রাতে খোয়াই শহরের গনকি এলাকায়, পুরাতন গ্যাস এজেন্সির সামনে দাঁড় করানো একটি মালবাহী টাটা এইচ গাড়ির ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর TR01W1743। জানা গিয়েছে, এই গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই নিজের রুজি-রোজগারের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন মালিক প্রসেনজিৎ শুক্ল বৈদ্য। পরিশ্রম করে অনেক কষ্টে গাড়িটি কিনেছিলেন তিনি। এটি তার সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস।
চুরির ঘটনাটি সামনে আসে আজ দুপুর ১টা নাগাদ, যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গাড়ির মালিক প্রসেনজিৎবাবু নিজেই বিস্তারিতভাবে ঘটনার বর্ণনা দেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন—
“আমি দিনরাত পরিশ্রম করে এই গাড়ি কিনেছি। এটিই আমার সংসারের চালিকা শক্তি। কিন্তু চোরের দল এক নিমেষে আমার স্বপ্ন ছিনিয়ে নিল। এই অবস্থায় কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না। আমি ইতিমধ্যেই পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশাকরি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি চিন্তিত। রাস্তাঘাটে পর্যাপ্ত আলো নেই, রাতে টহলদারিও চোখে পড়ে না বলেই চোরেরা এভাবে সহজে ঘটনাটি ঘটাতে পেরেছে।
এদিকে এই ঘটনা জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বলছেন, গত কয়েক মাস ধরেই খোয়াই শহরের বিভিন্ন এলাকায় চুরির প্রবণতা বেড়ে গেছে। অথচ, প্রশাসনের তরফে দৃশ্যমান কোনো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয়দের একাংশ বলছেন,
“এখন রাত হলেই আশঙ্কা বাড়ে—কবে কার বাড়ি বা দোকানে চোর ঢুকে পড়বে! চোরের দল দিনেদিনে আরও সাহসী হয়ে উঠছে।”
চুরির ঘটনায় মালিকের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও তিনি বিপর্যস্ত। একটি ব্যাটারি চুরির মতো ঘটনা যে একজন সাধারণ পরিশ্রমী মানুষের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই ঘটনা।
এই ঘটনার পর, আবারো প্রশ্ন উঠেছে—খোয়াই শহরের আইনশৃঙ্খলা আদৌ ঠিক আছে তো?
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কতটা সক্রিয়?
স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ প্রশাসনের উচিত চোরচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত চালিয়ে দোষীদের গ্রেফতার করা এবং শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া।








