পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানি বাজারে, ১ মে-তে সম্ভাব্য মূল্য সংশোধন; OTP যাচাই, কঠোর বুকিং নিয়ম ও আধার eKYC বাধ্যতামূলক।
২৮ এপ্রিল ২০২৬ । ভারত । নিউজ ডেক্সঃ বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের এলপিজি গ্যাসের দামে। প্রতি মাসের প্রথম দিন তেল বিপণন সংস্থাগুলি গ্যাসের দাম পর্যালোচনা করে থাকে, ফলে আগামী ১ মে-কে ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও কৌতূহল।

গত কয়েক মাস ধরেই এলপিজি সিলিন্ডারের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি এপ্রিল মাসে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম আরও বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিল মাসেই এই সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে প্রায় ১৯৬ টাকা, যা মার্চ মাসের একাধিক দফায় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় মে মাসের শুরুতেই এলপিজির দামে নতুন করে পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে বাজার বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

এদিকে, শুধুমাত্র দাম নয়—এলপিজি গ্যাসের বুকিং এবং ডেলিভারি ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে গ্রাহকদের এখন একটি বুকিংয়ের পর পরবর্তী বুকিং করতে হলে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে, যা আগে ছিল ২১ দিন। গ্রামীণ এলাকায় এই সময়সীমা আরও বাড়িয়ে ৪৫ দিন পর্যন্ত করা হয়েছে।
ডেলিভারি প্রক্রিয়াতেও এসেছে আধুনিকীকরণ। এখন থেকে গ্যাস সিলিন্ডার গ্রহণের সময় OTP-ভিত্তিক যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে ভর্তুকিযুক্ত গ্যাসের অপব্যবহার ও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা কমবে বলে আশা করছে সরকার। বর্তমানে প্রায় ৯৮ শতাংশ বুকিং অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে এবং ৯৪ শতাংশ ডেলিভারিতে OTP যাচাই প্রয়োগ করা হচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’ প্রকল্পের আওতায় থাকা গ্রাহকদের জন্য। এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য আধার-ভিত্তিক eKYC প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, বিশেষ করে যাঁরা এখনও এই যাচাই সম্পূর্ণ করেননি। প্রতি আর্থিক বছরে একবার এই যাচাই করলেই চলবে, তবে এটি না করলে ভর্তুকির সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম সিলিন্ডার রিফিলের পর থেকে অষ্টম রিফিল পেতে গেলে এই eKYC যাচাই সম্পন্ন থাকা আবশ্যক। এর ফলে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে ভর্তুকি পৌঁছানো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, মে মাসের শুরুতে এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। এখন নজর ১ মে-র দিকে—সেদিনই পরিষ্কার হবে গ্যাসের দাম বাড়ছে কি না, এবং নতুন নিয়মগুলি কীভাবে প্রভাব ফেলবে দৈনন্দিন জীবনে।







