স্মার্ট মিটারের স্মার্ট কাণ্ড! খোয়াইয়ে দুই গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল এক মাসে ৮২ হাজার ও ৩১ হাজার টাকা—আতঙ্কে সাধারণ মানুষ।
খোয়াই, ত্রিপুরা। ১৪ জুলাই ২০২৫ঃ ত্রিপুরার খোয়াই জেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে প্রবল চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ। স্মার্ট মিটারের নামে ‘স্মার্ট বিলিং’-এর করুণ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এইবার, খোয়াই শহরের বনকর এলাকায় এক মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৩১ হাজার ৫০০ টাকা—যা দেখে চোখ কপালে উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী প্রমেশ ভট্টাচার্যের।
তাঁর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর পরিবার খুবই সীমিতভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। অথচ এক মাসে এমন বিশাল বিল কীভাবে সম্ভব?
স্মার্ট মিটার লাগানোর পর থেকেই সন্দেহ ছিল অনেকের মনে। অনেকেই মনে করছিলেন, এতে স্বচ্ছতার বদলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে।
এবং সেই আশঙ্কাই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
প্রমেশবাবু বলেন—
“আমার পেনশনের টাকা দিয়ে সংসার চলে। হঠাৎ এমন বিল পেয়ে আমি দিশেহারা। এটা কেমন মিটার? না আছে নজরদারি, না আছে ব্যাখ্যা। কেউ উত্তর দিচ্ছে না।”
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উঠে এলো আরও এক বিস্ময়কর তথ্য—লালছড়ার বাসিন্দা অশোক দাস রায়-এর বাড়িতে এসেছে প্রায় ৮২ হাজার ৫০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল!
একটি সাধারণ পরিবারের জন্য যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও কল্পনার বাইরে। অশোকবাবুও ক্ষোভের সাথে জানান—
“এটা পরিষ্কার প্রতারণা। আমি অনতিবিলম্বে এই স্মার্ট মিটার খুলে ফেলার দাবি জানাচ্ছি। এটা আর কিছু নয়—গরিব মানুষের পকেট কাটার একটা স্মার্ট উপায় মাত্র।”
এদিকে একের পর এক অভিযোগ আসতেই নীরব হয়ে গেছেন খোয়াই বিদ্যুৎ দপ্তরের সিনিয়র ম্যানেজার দিবাকর নাথ। এলাকাবাসীর দাবি, তাঁকে বিগত দুই দিন ধরে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরছেন না। কোথায় আছেন, কী করছেন—তা কেউ জানেন না।
সাধারণ গ্রাহকদের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন, “প্রথমে মিটারের নামে আসলো আধুনিকতা, এখন আসছে দৈনিক আতঙ্ক। প্রতিদিন ঘুম ভাঙছে নতুন বিল দেখে।”
সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা, উঠছে প্রশ্ন—স্মার্ট মিটার কি আদৌ গ্রাহকবান্ধব, নাকি এক নতুন জঞ্জাল?
অনেকেই বলছেন, এই মিটার ব্যবস্থায় না আছে স্বচ্ছতা, না আছে জবাবদিহিতা। দিনের শেষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, যাঁদের পক্ষে এমন বিল পরিশোধ করা কার্যত অসম্ভব।
স্মার্ট মিটার নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেই অভিযোগ বাড়ছে। কিন্তু এবার খোয়াইয়ে এক মাসে ৮২ হাজার ও ৩১ হাজার টাকার বিল আসার মতো ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই বিল কার ভুলে, কার স্বার্থে, কার ক্ষতিতে তৈরি হলো?
এবং সবথেকে বড় প্রশ্ন—বিদ্যুৎ দপ্তর কি এবার মুখ খুলবে, নাকি ‘স্মার্ট চুপ’ চালিয়ে যাবে?
অভিযোগের ভিত্তিতে অবিলম্বে তদন্ত ও দায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে।
এখন নজর থাকছে প্রশাসনের দিকেই—তারা কী পদক্ষেপ নেয়, আর খোয়াইয়ের মানুষ কীভাবে এই “স্মার্ট বিপদ” থেকে মুক্তি পান।








