দেড় বছর ধরে অবৈধ সম্পর্ক, জোর করে ভ্রূণ নষ্টের ওষুধ খাওয়ানোর অভিযোগ—অভিযুক্ত অনুকূল পাল পলাতক, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা।
খোয়াই, ত্রিপুরা । রিপোর্ট- কালীদাস ভৌমিকঃ খোয়াই জেলার উত্তর চেবরী এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ও সমাজকে নাড়া দেওয়া ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক বিধবা মহিলার মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা জুড়ে উঠেছে ছিঃ ছিঃ রব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
ঘটনা বিবরণে প্রকাশ, খোয়াইয়ের উত্তর চেবরী এলাকার বাসিন্দা অনুকূল পাল গত দেড় বছর ধরে এক বিধবা মহিলার সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত অনুকূল পাল ওই অসহায় বিধবা মহিলাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে শোষণ করে আসছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এই অবৈধ সম্পর্কের ফলস্বরূপ বিধবা মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। অভিযোগ, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে অনুকূল পাল ওই মহিলাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য লাগাতার মানসিক চাপ দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তের জোরপূর্বক চাপের মুখে পড়ে ওই অসহায় মহিলা অবৈধ ভ্রূণ হত্যার উদ্দেশ্যে ওষুধ খেতে বাধ্য হন। অনুকূল পালের দেওয়া ওই সন্তান নষ্ট করার ট্যাবলেট খাওয়ার পর মহিলার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।
অসুস্থ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত ওই বিধবা মহিলা বাধ্য হয়ে চেবরী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হন। প্রথমদিকে তিনি বিষয়টি চিকিৎসকদের কাছে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তবে মহিলার শারীরিক অবস্থায় অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করে চেবরী হাসপাতালের চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে ওই মহিলা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই বিধবা মহিলা একটি মৃত সন্তানের জন্ম দেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই উত্তর চেবরী জুড়ে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত অনুকূল পালের বিরুদ্ধে সরব হন এবং তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেন। যদিও ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত অনুকূল পাল গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুলাঙ্গার অনুকূল পাল এর আগেও একাধিক মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের জীবন নষ্ট করেছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, এই ধরনের দুশ্চরিত্র ও পাষণ্ড ব্যক্তিকে কোনোভাবেই এলাকায় থাকতে দেওয়া যায় না। সমাজকে কলুষিত করা এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি উঠেছে।
এদিকে ওই বিধবা মহিলা জানান, মৃত সন্তানটিকে তিনি সকলের অজান্তে একটি গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছেন। এই স্বীকারোক্তি ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ ও মর্মান্তিক করে তুলেছে।
এই বিরল থেকে বিরলতম জঘন্য ঘটনায় গোটা উত্তর চেবরী এলাকায় তীব্র নিন্দা ও ঘৃণার সঞ্চার হয়েছে। সমাজকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযুক্ত অনুকূল পালের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে কিনা এবং দোষীর উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হয় কিনা।







