ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ২০০ টাকার খাবারের প্যাকেটে মিলল মাত্র একটি বাঙ্গই, বাস্তব চিত্রে ফাঁস প্রশাসনিক গাফিলতি
আগরতলা, ত্রিপুরা । ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ঃ ৪৮তম ককবরক ভাষা দিবস—যে দিনটি হওয়ার কথা ছিল ভাষা, সংস্কৃতি ও আদিবাসী ঐতিহ্যের গৌরবময় উদযাপন, সেই দিনই এখন রাজ্যের প্রানকেন্দ্রে উঠে আসছে একের পর এক লজ্জাজনক অভিযোগ।
ককবরক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভোর সকাল থেকেই বিভিন্ন বিদ্যালয়ের খুদে ছাত্র-ছাত্রীরা মাঠে হাজির হয়েছিল। সকাল সাতটার সময় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানো এই শিশুদের অনেকেই দুপুর বারোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পায়নি ন্যূনতম খাবার।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও বিস্ময়কর বিষয়, ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে দেওয়া বিশাল আকারের খাবারের বক্স খুলতেই চোখ কপালে ওঠে।
বড় প্যাকেটের ভিতরে ছিল মাত্র একটি ছোট বাঙ্গই।
না ছিল কেক, না ছিল ফল, না ছিল পানীয়—শুধু একটি বাঙ্গই দিয়েই যেন দায় সারা হয়েছে আয়োজকদের।
অন্যদিকে, দপ্তর কর্তৃপক্ষ ক্যামেরার সামনে দাবি করেন—
প্রতিটি খাবারের প্যাকেটে একটি কেক, একটি ফ্রুটি এবং একটি কমলা দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।
আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে—একাধিক বড় খাবারের বক্স খুলে পাওয়া যাচ্ছে শুধুমাত্র একটি করে বাঙ্গই।
সূত্রের খবর অনুযায়ী,
প্রতিটি খাবার প্যাকেটের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০০ টাকা।
এখন প্রশ্ন উঠছে—
👉 এই ২০০ টাকার খাবার গেল কোথায়?
👉 কার পকেটে ঢুকল শিশুদের প্রাপ্য খাবারের টাকা?
👉 তবে কি ককবরক দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আড়ালে চলছে খাবার নিয়ে বড়সড় দুর্নীতি?
সবচেয়ে করুণ দিক হলো—
যে শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য এই অনুষ্ঠান,
সেই শিশুরাই রইল ক্ষুধার্ত।
ভাষা দিবসের মঞ্চে যখন বড় বড় ভাষণ চলেছে,
তখন মাঠের এক কোণে ক্ষুধায় কাতর ছোট ছোট ছাত্র-ছাত্রী।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের প্রশ্ন—
ভাষা দিবস কি শুধু অনুষ্ঠান আর ফিতা কাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ?
নাকি শিশুদের ন্যূনতম সম্মান ও অধিকারও এর অন্তর্ভুক্ত?
এখন দেখার বিষয়,
এই অভিযোগের পর জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কি কোনও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দেয়,
নাকি বিষয়টি ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে?
ককবরক ভাষা দিবসের মতো পবিত্র অনুষ্ঠানে যদি এই ধরনের অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়,
তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়,
জনমানসে গভীর আস্থাহীনতার জন্ম দেবে—এ কথা বলাই বাহুল্য।








