মাধবী বিশ্বাসের ওপর প্রাণঘাতী হামলা: উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলাঃ রাজ্যে আইনের শাসন কি কেবল বক্তৃতার মঞ্চেই সীমাবদ্ধ? গত গভীর রাতের এক নৃশংস ঘটনা ফের একবার সেই প্রশ্নকে বড় করে তুলল। রাজ্যের জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মাধবী বিশ্বাস এবং তাঁর নাবালক পুত্রের ওপর অতর্কিত প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। গভীর রাতে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে একদল দুষ্কৃতী এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই মাধবী বিশ্বাসের বাড়িতে চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ উঠেছে, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং মাধবী বিশ্বাস ও তাঁর ছেলের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই হামলায় তারা গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বিস্ময়
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো প্রশাসনের ভূমিকা। রাজধানীর বুকে এমন এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও পূর্ব মহিলা থানা জানিয়েছে, সকাল পর্যন্ত তারা এই বিষয়ে কিছুই জানত না। একটি রাজ্যের প্রধান শহরে পুলিশের এই তথাকথিত ‘অজ্ঞতা’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, রাতের টহলদারি কি তবে নামমাত্র?
মাধবী বিশ্বাসের পাশে বাম নেতৃত্ব
ঘটনার খবর পেয়েই মাধবী বিশ্বাসের বাড়িতে এবং হাসপাতালে ছুটে যান সিপিআইএম (CPIM) নেতৃত্ব। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কথা উল্লেখ করেন।
- উপস্থিত সংগঠন: আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় SFI, DYFI এবং সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতির সদস্যদের।
- ডেপুটেশন প্রদান: পুলিশের নিস্পৃহ ভূমিকার প্রতিবাদে এবং দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে পূর্ব মহিলা থানায় বাম ছাত্র-যুব ও নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়।
বিশিষ্ট মহলের প্রতিক্রিয়া
মাধবী বিশ্বাসকে দেখতে যান রাজ্যের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মী পুরুষোত্তম রায় বর্মন। তিনি এই ঘটনাকে নাগরিক অধিকারের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানান যে, অপরাধীরা যে রঙেরই হোক না কেন, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিরাপত্তা কোথায়?
বর্তমান যুগে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন বা কন্টেন্ট তৈরি করেন, তারা ক্রমশই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। মাধবী বিশ্বাসের মতো একজন পরিচিত মুখ যদি নিজের বাড়িতেই নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ নারীদের সুরক্ষা কোথায়—এই প্রশ্নই এখন মুখে মুখে ঘুরছে।
মূল পয়েন্টসমূহ যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়:
- ধর্মীয় স্লোগানের অপব্যবহার: কেন অপরাধের সময় এই ধরনের ধর্মীয় ধ্বনি ব্যবহার করা হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
- তদন্তের স্বচ্ছতা: পুলিশ কেন সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারল না, তার জবাবদিহি চাইছেন আন্দোলনকারীরা।
- ভয়মুক্ত সমাজ: মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ভাষণে আইনের শাসনের কথা বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটানোই আসল চ্যালেঞ্জ। মাধবী বিশ্বাসের ওপর এই হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং এটি রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর একটি বড় ধাক্কা। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিভিন্ন গণসংগঠন।







