SARAS MELA পেচারতল স্কুল মাঠে ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন, অথচ স্বাধীন সাংবাদিকদের অবজ্ঞা—প্রশাসনের দ্বিচারিতা প্রকাশ্যে।
পেচারতল , ত্রিপুরা । রিপোর্ট রুকন পাল : কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কোষাগার কার্যত খালি করে পেচারতল স্কুল মাঠে ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে তথাকথিত ‘সরস মেলা’। রঙিন আলো, মঞ্চসজ্জা, ফেস্টুন ও বিলাসবহুল আয়োজনের কোনও ঘাটতি ছিল না। কিন্তু এই জাঁকজমকের আড়ালেই প্রকাশ্যে এসেছে এক চরম দুঃখজনক ও লজ্জাজনক চিত্র, যা প্রশাসনের মানসিকতা ও দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
মেলা উদ্বোধনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সৌজন্য ও পেশাগত সম্মান তো দূরের কথা, বসার কোনও ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা সংবাদকর্মীদের জন্য চা বা পানীয় জলের মতো সামান্য ব্যবস্থাও করা হয়নি।
যেখানে সরকারি অর্থের অপচয়ে কোনও কার্পণ্য নেই, সেখানে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এমন অবহেলা নিঃসন্দেহে অপমানজনক বলেই মনে করছেন সংবাদকর্মীরা।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই মেলায় তথাকথিত তল্পিবাহক ও প্রশাসনঘেঁষা সাংবাদিকদের ছাড়া কোনও স্বাধীনচেতা, নিরপেক্ষ ও প্রশ্নকারী সাংবাদিককে কার্যত আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। ফলে শুরু থেকেই এই মেলার স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই পুরো বিষয়টির দায়িত্ব ছিল তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক শুভাশীষ বাবুর ওপর, যিনি কুমারঘাট মহকুমায় দায়িত্বপ্রাপ্ত। তাঁর প্রধান কাজই ছিল মেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সংবাদ সংগ্রহের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা।
কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা।
অভিযোগ, শুভাশীষ বাবু সাংবাদিকদের প্রয়োজন ও অসুবিধার দিকে নজর না দিয়ে মেলায় আগত নেতা-মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের আপ্যায়ন ও তোষামোদে ব্যস্ত ছিলেন। একদিকে সাংবাদিকরা চা পর্যন্ত পাননি, অন্যদিকে তিনি নিজে চর্ব্য-চুষ্য-লেহ্য-পেয় ভোজনে মগ্ন ছিলেন—যা শুধুমাত্র নিন্দনীয়ই নয়, নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
এই ঘটনায় আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে প্রশাসনের দ্বিচারিতা।
একদিকে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ন্যূনতম খাদ্য, কাজ ও জীবিকার অভাবে দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারি অর্থ ব্যয় করে মেলা ও উৎসবকে কেন্দ্র করে নেতা ও আমলাদের বিলাসিতা, প্রদর্শন ও আত্মপ্রচার অব্যাহত রয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—সরকারি অর্থ কি জনস্বার্থে ব্যয় হচ্ছে, নাকি কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির আরাম-আয়েশ ও প্রচারের মাধ্যম হয়ে উঠেছে?
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক সমাজকে যদি এভাবে অবজ্ঞা করা হয়, তাহলে স্বচ্ছ প্রশাসন ও জবাবদিহির কথা কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
এই ঘটনার পর সচেতন মহল, সাংবাদিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উঠেছে—
এই ঘটনার জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে যথাযথ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ যাতে আর না হয়, সে বিষয়েও স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে পেচারতলের সরস মেলা এখন শুধুই উৎসবের জন্য নয়, বরং প্রশাসনিক ঔদ্ধত্য, বৈষম্য ও দায়িত্বহীনতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবেই আলোচনায়।
সরকারি মঞ্চে উৎসবের আলো যতই ঝলমলে হোক না কেন, তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই বাস্তব চিত্র আজ অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।








