উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত মাননীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ; রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশ্বমানের ব্যাংকিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আরও সুদৃঢ়।
নিউজ ডেস্ক । ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ঃ আজ ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের ইতিহাসে আরও এক গর্বের অধ্যায় যুক্ত হলো। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সিদ্ধাই মোহনপুর বাজার এলাকায় ব্যাংকের একটি অত্যাধুনিক, আল্ট্রা–মডার্ন ATM ই–লবি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এই নতুন ATM ই–লবি প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ ও গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকিং পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের নিরলস প্রচেষ্টার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলো।

এই বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেন ত্রিপুরা সরকারের মাননীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শ্রী রতন লাল নাথ। তাঁর সম্মানজনক উপস্থিতি শুধু অনুষ্ঠানটির গুরুত্বই বৃদ্ধি করেনি, বরং রাজ্যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসারে সরকারের সদিচ্ছাকেও আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

নতুন উদ্বোধিত এই ATM ই–লবি ২৪×৭ নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ ও ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিষেবা প্রদানের জন্য পরিকল্পিত। উন্নত প্রযুক্তিতে নির্মিত এই ই–লবি গ্রাহকদের যেকোনো সময় সহজে ব্যাংকিং পরিষেবা গ্রহণের সুযোগ করে দেবে। এর মাধ্যমে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে বিশ্বমানের ব্যাংকিং পরিকাঠামো পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার নিয়েছে, তা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
এদিন ATM ই–লবির ঠিক সংলগ্ন স্থানে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের একটি কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট (CSP)–এরও শুভ উদ্বোধন করা হয়। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মোহনপুর (সিদ্ধাই) বাজার এলাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই CSP সাধারণ মানুষ, বিশেষত গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাংকিং পরিষেবা আরও সহজলভ্য করে তুলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাননীয় মন্ত্রী শ্রী রতন লাল নাথ রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি কোণায় ব্যাংকিং পরিষেবা সম্প্রসারণে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানের মধ্যেই তিনি ওই CSP কেন্দ্রে বিজনেস করেসপন্ডেন্ট (BC) সুবিধার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেই একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে এই পরিষেবার কার্যকারিতা প্রদর্শন করেন।
বর্তমানে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক রাজ্যে এক শক্তিশালী ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে এগিয়ে চলেছে। রাজ্যজুড়ে ব্যাংকের রয়েছে ১৫০টি শাখা, ১২টি আল্ট্রা স্মল ব্রাঞ্চ এবং ৪৭৬টি কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট। সমগোত্রীয় অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় এই বিস্তৃত উপস্থিতি ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংককে একটি অনন্য অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। সর্বশেষ SLBC রিপোর্ট অনুযায়ী, সর্বাধিক শাখা নেটওয়ার্কের নিরিখে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক রাজ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে ১৫০টি শাখা নিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (৭৯টি শাখা) এবং তৃতীয় স্থানে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (৭০টি শাখা)।

মাননীয় মন্ত্রী ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে গত ৩–৪ বছরে ব্যাংকের সার্বিক রূপ ও পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন আনার জন্য বিশেষভাবে সাধুবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা থেকে শুরু করে আধুনিক পরিকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক অন্যান্য জাতীয়কৃত ব্যাংকের সমতুল্য হয়ে উঠেছে। এই ধারাবাহিক উন্নয়নের কারণেই ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক আজ “রাজ্যের নিজস্ব ব্যাংক” হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
বর্তমানে রাজ্যে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা ৩১ লক্ষেরও বেশি, যা একে রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ও শক্তিশালী ব্যাংকে পরিণত করেছে। সিদ্ধাই মোহনপুর ATM–সহ বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের মোট ৪০টি ATM কার্যকর রয়েছে। ATM কাউন্টারের সংখ্যার বিচারে ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংক রাজ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে; প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে যথাক্রমে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক।

একসময় ATM পরিষেবা ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বদলে গেছে। বর্তমানে সমস্ত ATM ই–লবিতে স্বয়ংক্রিয় পাসবুক প্রিন্টিং মেশিন সংযুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যাংককে আরও আধুনিক ও গ্রাহকবান্ধব রূপ দিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের আর শাখার ভেতরে লাইনে দাঁড়িয়ে পাসবুক প্রিন্ট করাতে হবে না; ATM ই–লবিতেই সহজে, দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে। এতে গ্রাহকদের সময় সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাও আরও উন্নত হয়েছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, সিদ্ধাই মোহনপুরে এই আধুনিক ATM ই–লবি ও CSP–এর উদ্বোধন ত্রিপুরা গ্রামীণ ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা রাজ্যের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।








