TRIPURA UNIVERSITY DEPT OF JMC ২০ হাজার টাকা তুলে অসহায় কাশীরাম ত্রিপুরার চিকিৎসার রসদ জোগালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা এবং জনসংযোগ (JMC) ছাত্রছাত্রীরা; প্রমাণ করলেন সাংবাদিকতা মানে কেবল খবর নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও।

দ্যা নিউজ নাইন ডেস্ক । ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ঃ খবর মানেই কি কেবল ঘটনার বিবরণ? নাকি খবরের পেছনের মানুষগুলোর যন্ত্রণায় সমব্যথী হওয়া? সাংবাদিকতা মানে যে কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা—সেই মন্ত্রেই দীক্ষিত হয়ে এবার মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা এবং জনসংযোগ বিভাগের পড়ুয়ারা। ধলাই জেলার এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো এবং গুরুতর আহত এক পরিবারের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন তাঁরা। দেখুন আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন।

ঘটনার সূত্রপাত ধলাই জেলার ডুম্বুরনগর ব্লকের অন্তর্গত কর্ন কিশোর পাড়া, দলাপতি এলাকায়। একটি সাধারণ দিন, রাতের খাওয়া-দাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল কাশীরাম ত্রিপুরার বাঁশের তৈরি ছোট্ট ঘরটিতে। কিন্তু মুহূর্তের অসতর্কতায় বা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটে যায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আগুনের লেলিহান শিখা নিমেষেই গ্রাস করে নেয় পুরো বাড়িটিকে। বাঁশের বেড়া হওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে তীব্র গতিতে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হন কাশীরাম ত্রিপুরা এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য। বর্তমানে তাঁরা আগরতলার এজিএমসি ও জিবি (AGMC & GB) হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পরিবারটির এই অসহায় অবস্থার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নজরে আসে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা এবং জনসংযোগ বিভাগের (JMC) শিক্ষার্থীদের। আর্তের সেবায় দেরি করেননি তাঁরা। নিছক সহমর্মিতা জানিয়েই তাঁরা ক্ষান্ত থাকেননি, বরং উদ্যোগ নেন একটি স্বেচ্ছাসেবী তহবিল সংগ্রহের। যেমন ভাবা, তেমনি কাজ। বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে, এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।

তাঁদের এই মানবিক আবেদনে অভূতপূর্ব সাড়া মেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, আধিকারিক, কর্মচারী এবং অন্যান্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা উদারহস্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংগ্রহ করা হয় ২০,০০০ টাকা।সংগৃহীত এই অর্থ ইতিমধ্যেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে, যা তাঁদের ওষুধপত্র কেনা এবং হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসার খরচ মেটাতে সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীদের মতে, এই উদ্যোগ কোনো বাধ্যবাধকতা থেকে নয়, বরং সম্পূর্ণ মানবিক তাড়না থেকে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিভাগের অধ্যাপকরা ছাত্রছাত্রীদের এই উদ্যোগকে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁরা জানান, সাংবাদিকতা বিভাগের পাঠ্যক্রম কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; সহানুভূতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং একজন সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাই এর মূল লক্ষ্য। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আজকের ছাত্রসমাজ মানুষের দুঃখে বিচলিত হয় এবং প্রয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়তে জানে।
চরম বিপদের মুহূর্তে মানুষই যে মানুষের শেষ ভরসা, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেএমসি বিভাগের এই উদ্যোগ তা আবারও প্রমাণ করে দিল। ক্যামেরার লেন্স বা খবরের কাগজের কলমের বাইরে এসে বাস্তব জীবনেও যে তাঁরা সংবেদনশীল মানুষ, এই ঘটনা তারই সাক্ষী হয়ে রইল। মানবতার এই জয়গান অব্যাহত থাকুক।










