বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস ও জেলা সভাপতি অমলেন্দু দাসের উপস্থিতিতে মেলার শুভ সূচনা হলেও, অব্যবস্থাপনার জেরে অপদস্থ সংবাদকর্মী ও স্থানীয় শিল্পীরা; মেলা কমিটির ভূমিকা ও ‘পাস’ বিতর্ক নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন।
কুমারঘাট, ত্রিপুরা । রিপোর্ট-রুকন পালঃ গত ৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার ঠিক বিকেল ৩টায় কুমারঘাট বিধানসভার অন্তর্গত পূর্ত দপ্তরের ময়দানে ধুমধাম করে সূচনা হয় ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলার। স্থানীয় সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যের এক অনন্য নজির হিসেবে এই মেলার গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ৫০-পাবিয়াছড়া বিধানসভার বর্তমান বিধায়ক শ্রী ভগবান চন্দ্র দাস।

এদিনের মেলার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন উনকোটি জেলা পরিষদের মাননীয় জেলা সভাপতি শ্রী অমলেন্দু দাস মহোদয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফিতে কেটে তিনি এই মেলার শুভ সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই মেলা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসাহ মেলা চত্বরকে এক মিলনমেলায় পরিণত করে।

স্থানীয় শিল্পীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছিল যে, নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের লোকসংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতে এই মেলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, উৎসবের এই সুর তাল কাটল মেলার চতুর্থ দিনে। অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে যেই স্থানীয় শিল্পীরা নিজেদের উজাড় করে মেলার মঞ্চ মাতিয়ে রেখেছিলেন, চতুর্থ দিনে তাঁদেরকেই মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। শুধু শিল্পী নন, সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া মিডিয়া কর্মীদেরও বাধার মুখে পড়তে হয়।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, চতুর্থ দিনে যখন স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা মেলা প্রাঙ্গণে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে যান, তখন মেলা কমিটির স্বেচ্ছাসেবক এবং সদস্যরা তাঁদের পথ আটকান। সংবাদ কর্মীরা নিজেদের বৈধ ‘প্রেস আইডি কার্ড’ প্রদর্শন করার পরেও কমিটির সদস্যরা তা গ্রাহ্য করেননি এবং তাঁদের ভেতরে ঢুকতে দেননি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে, অপমানিত বোধ করে সংবাদ সংগ্রহ না করেই ফিরে আসতে হয় সংবাদ কর্মীদের। কইভাবে অপমানের শিকার হতে হয় কুমারঘাটের স্থানীয় শিল্পীদেরও। যে শিল্পীরা বিগত তিন দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দর্শকদের বিনোদন দিলেন, চতুর্থ দিনে তাঁরাই হয়ে গেলেন ‘অচ্ছুৎ’। অভিযোগ উঠছে, মেলা কমিটি বহিরাগত বা নামী শিল্পীদের জন্য যে পরিমাণ সম্মান ও আতিথেয়তা প্রদর্শন করছেন, তার ছিটেফোঁটাও জুটছে না মাটির কাছাকাছি থাকা স্থানীয় শিল্পীদের কপালে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, “ঘরের ছেলেমেদের অপমান করে বাইরের শিল্পীদের তোষামোদ কেন?” স্থানীয় শিল্পী মহলের মতে, বড় অনুষ্ঠান বা মেলা সফল করতে হলে স্থানীয় প্রতিভাকে সম্মান জানানো আবশ্যিক। কিন্তু বিনা নোটিশে বা আগে থেকে কোনো বিশেষ পাসের ব্যবস্থা না করে এভাবে গেট থেকে ফিরিয়ে দেওয়া বা বাধা দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়।মেলা কমিটির কাছে ভুক্তভোগী শিল্পী ও সংবাদ মহলের বিনীত অনুরোধ, ভবিষ্যতে এত বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রবেশ সংক্রান্ত নিয়মাবলী আরও স্পষ্ট করা হোক। যদি বিশেষ কোনো প্রবেশপত্র বা পাসের প্রয়োজন থাকে, তবে তা যেন আগে থেকেই স্থানীয় শিল্পী ও মিডিয়া বন্ধুদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এভাবে গেটের সামনে দাঁড় করিয়ে কাউকে অপমান করা সুস্থ সংস্কৃতির পরিচয় নয়।

ভবিষ্যতে কুমারঘাটের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা তার গরিমা বজায় রাখুক এবং স্থানীয় শিল্পী ও সংবাদ মাধ্যমকে যথাযথ সম্মান দিয়ে একসাথে পথ চলুক—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।








