রাজ্যপাল ইন্দ্রসেন রেড্ডি নাল্লু ও মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়ার উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য উদ্বোধন; জাতি-জনজাতির মহামিলনে মুখরিত শান্তির বাজার।
শান্তির বাজার প্রতিনিধি, বাহাদুর ত্রিপুরা: শীতের স্নিগ্ধ সকালে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য আবহে দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তির বাজারে শুরু হলো ‘পিলাক প্রত্ন ও পর্যটন উৎসব ২০২৬’। বুধবার ফিতা কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী এই মেলা ও উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ত্রিপুরার মাননীয় রাজ্যপাল ইন্দ্রসেন রেড্ডি নাল্লু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সমবায় ও জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া।
প্রতি বছরের মতো এবারও এই মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জাতি ও জনজাতির মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব একাত্মতা লক্ষ্য করা গেছে। উদ্বোধনী ভাষণে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া শান্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “শান্তি থাকলে মানুষের মনে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ আসে। এই পিলাক মেলা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে একতা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের আয়োজন পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে।
ত্রিপুরার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও পর্যটন মানচিত্রে পিলাক এক উজ্জ্বল নাম। হিন্দু ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর বহু শৈল্পিক নিদর্শন রয়েছে। মেলা উপলক্ষ্যে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে অলোকিতেশ্বর, নরসিংহ মূর্তি ও টেরাকোটার কারুকার্য দেখার জন্য ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। পর্যটন দপ্তর এই ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে এই উৎসবের আয়োজন করে আসছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেন রেড্ডি নাল্লু পিলাকের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পিলাকের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা মেলা প্রাঙ্গণে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পক্ষ থেকে খোলা স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। ফিতা কেটে স্টলগুলোর দ্বার উন্মোচন করা হয়। সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই স্টলগুলো স্থাপন করা হয়েছে।
৭ই জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে আগামী ৯ই জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলা প্রাঙ্গণে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলাকে ঘিরে শান্তির বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
বিকেলের পড়ন্ত রোদে পিলাকের এই উৎসব প্রাঙ্গণ এখন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক মিলন তীর্থে পরিণত হয়েছে। পর্যটন প্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়ে মুখরিত এই মেলা আগামী দুই দিন ত্রিপুরার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে আরও উজ্জ্বলভাবে ফুটিয়ে তুলবে বলে আশাবাদী আয়োজকরা।








