বিকেআই মাঠে আয়োজিত ইন্টার স্কুল হোস্টেল ফুটবল প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেদের সমাবেশ।
শান্তির বাজার প্রতিনিধি, বাহাদুর ত্রিপুরা: রাজ্যের যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং মাদকমুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বর্ণাঢ্য ফুটবল উৎসব। মঙ্গলবার বিলোনিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত জেলা উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে এবং ব্যবস্থাপনায় বিলোনিয়া বি.কে.আই. (B.K.I) ময়দানে মহান জননায়ক ভগবান বিরসা মুন্ডার স্মৃতিতে আয়োজিত ‘ইন্টার স্কুল হোস্টেল পুরুষ বিভাগ’ ফুটবল টুর্নামেন্টের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব সম্পন্ন হয়।
এদিনের এই মহতী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন রাজ্য সরকারের সমবায় ও উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি ক্রীড়াশৈলীর গুরুত্ব এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

টুর্নামেন্ট শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মহোদয় স্বয়ং উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন। উল্লেখ্য যে, গত সোমবার জোলাইবাড়িতে অনুষ্ঠিত বালিকা বিভাগের বিজয়ী ও রানার্স আপ দল এবং মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বালক বিভাগের বিজয়ী ও রানার্স আপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে গৌরবময় ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এই ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে বি.কে.আই মাঠ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিলোনিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের মাননীয় বিধায়ক মাইলাফ্রু মগ। এছাড়াও প্রশাসনিক স্তরের আধিকারিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক (D.M.), বিলোনিয়ার মহকুমা শাসক (S.D.M.) এবং বিলোনিয়া পৌরসভার পৌরপিতা তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী নিখিল চন্দ্র গোপ মহোদয়। তাঁদের উপস্থিতিতে টুর্নামেন্টটি এক অনন্য মাত্রা পায়।
খেলোয়াড় ও দর্শকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া মাদকের বিরুদ্ধে এক জোরালো জেহাদ ঘোষণা করেন। তিনি বেশ কিছু অনুপ্রেরণামূলক স্লোগান দিয়ে যুবসমাজকে সচেতন করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন—
“মাদক ছেড়ে মাঠে চল, খেলাধুলায় বাড়ে বল। আমরা সবাই মিলে একসাথে খেলাধুলা করব এবং একটি মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গড়ে তুলব।”
তিনি আরও যোগ করেন—
“মাদককে ‘না’ বলুন এবং মাঠে এসে ফুটবল খেলুন। কারণ খেলাধুলা মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখে, অন্যদিকে মাদক মানুষের বিচারবুদ্ধি ও বোধশক্তি কেড়ে নেয়। একটি মাদকমুক্ত দেশ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম।”
উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। ফুটবলকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে উন্মাদনা দেখা গেছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যুবসমাজকে মাঠমুখী করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।








