শৈত্যপ্রবাহের জেরে রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণা করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী, সেই নির্দেশ অমান্য করে চাকমাঘাটে খুদে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ; সাংবাদিকদের দেখে তড়িঘড়ি স্কুল ছুটির নির্দেশ প্রধান শিক্ষকের।
তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি, হিরণ্ময় রায়ঃ রাজ্যজুড়ে চলছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়ার এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার্থে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগামী ১০ই জানুয়ারি পর্যন্ত সমস্ত স্কুল ছুটির ঘোষণা করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বিষয়টি সকল অভিভাবকদের অবগতও করেছেন। কিন্তু অভিযোগ, সরকারের এই জনহিতকর সিদ্ধান্তকে কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না তেলিয়ামুড়া মহকুমার কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষ। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, প্রশাসনিক নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা চালিয়ে যাচ্ছে পঠন-পাঠন। আর স্কুল কর্তৃপক্ষের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বলি হতে হচ্ছে ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুদের।
এমনই এক নজিরবিহীন এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনা লেন্সবন্দি হলো তেলিয়ামুড়া মহকুমার ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চাকমাঘাট মগবাড়ি এলাকায়। অভিযোগের তীর সেখানকার ‘বিদ্যাসাগর পাঠশালা প্রি-প্রাইমারি বিদ্যালয়’-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ছুটির নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, এই প্রবল ঠান্ডার মধ্যে শিশুদের স্কুলে আসতে বাধ্য করা হয়। শুধুমাত্র ক্লাস করানোই নয়, নিয়ম করে নেওয়া হচ্ছিল পরীক্ষাও। যেখানে বড়দেরই ঘর থেকে বের হতে কষ্ট হচ্ছে, সেখানে এই তীব্র শীতে একপ্রকার জোর করেই খুদে পড়ুয়াদের বসানো হয়েছিল পরীক্ষার হলে।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা যখন বিদ্যাসাগর পাঠশালায় উপস্থিত হন, তখন দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখামাত্রই কার্যত ভোল বদলে ফেলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশীল চৌধুরী। প্রথমে তিনি বিভিন্ন আবেগঘন এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে নিজের দোষ ঢাকবার চেষ্টা করেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তিনি সাংবাদিকদের সামনেই নানান অজুহাত খাড়া করতে থাকেন। কিন্তু পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এবং সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি তিনি চলমান পরীক্ষা বন্ধ করে দেন এবং ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধান শিক্ষকের এই আচরণ গোটা বিষয়টিকে আরও রহস্যজনক এবং সন্দেহজনক করে তুলেছে।
অন্যদিকে, স্কুলের এই সিদ্ধান্তে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে ছোট ছোট বাচ্চারা। একাধিক ছাত্রছাত্রী জানিয়েছে, এই হাড়কাঁপানো শীতে সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে আসা এবং দীর্ঘক্ষণ ঠাণ্ডা বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দেওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। অনেকেরই হাত-পা শীতে জমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন অমানবিক আচরণে তীব্র ক্ষোভ ফেটে পড়েছেন অভিভাবকরাও। তাদের প্রশ্ন, যেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে ছুটির ঘোষণা করেছেন, সেখানে এই স্কুলটি কার নির্দেশে বা কোন সাহসে স্কুল খোলা রাখল? শিশুদের কিছু হলে এর দায়ভার কে নিত? অভিভাবক মহলের দাবি, অবিলম্বে জেলা শিক্ষা দপ্তর এবং প্রশাসনকে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শুধুমাত্র মৌখিক ভর্ৎসনা নয়, সরকারি নির্দেশ অমান্যকারী এই ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়। এখন দেখার বিষয়, সংবাদমাধ্যমে এই খবর সম্প্রচারের পর শিক্ষা দপ্তর ঠিক কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।








