হুইলচেয়ার সংক্রান্ত তর্ক থেকে শুরু উত্তেজনা, চিকিৎসাকর্মীদের উপর শারীরিক আক্রমণ; এনসিসি থানায় মামলা, তদন্তে নেমেছে পুলিশ
আগরতলা, ত্রিপুরা । ১১ নভেম্বর ২০২৫ঃ রাজধানীর অন্যতম প্রধান রেফারেল হাসপাতাল গোবিন্দ বল্লভ পান্ত (জিবিপি) হাসপাতালে গতকাল ঘটে গেল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয় ঘটনা। সাধারণ একটি হুইলচেয়ার নিয়ে সামান্য তর্ক-বিতর্ক থেকে শুরু হয় উত্তেজনা, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তা রূপ নেয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে। অভিযোগ উঠেছে, রোগীর পরিজনরা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে শারীরিক আক্রমণের ঘটনাও ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা চলছিল। ঠিক তখনই এক রোগীর পরিজন হুইলচেয়ার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কথার লড়াই বাড়তে বাড়তে তা চরম আকার ধারণ করে। উপস্থিত অন্যান্য চিকিৎসাকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাদের প্রতিও অশোভন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ। এক পর্যায়ে চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় হাসপাতালে অস্থায়ী বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি নিরাপত্তারক্ষীদের মোতায়েন করে এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে। পরবর্তীতে হাসপাতালের তরফ থেকে এনসিসি থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কাঠালিয়ার অভিজিৎ শীল ও অভিজিৎ সাহা নামে দুই যুবককে আটক করে।
এ বিষয়ে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান,
“প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, হাসপাতালের ভেতরে আচরণবিধি ভঙ্গ ও সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করছি। ধৃত দুই অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হবে এবং প্রয়োজনে রিমান্ড চাওয়া হবে।”
এই ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসক মহলে প্রবল ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ নাগরিকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন— চিকিৎসাসেবা দেওয়া হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে যদি চিকিৎসক ও কর্মীরা নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হবে এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
বর্তমানে আটক দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই জানা যাবে ঘটনার পেছনে আর কেউ যুক্ত আছে কিনা।
রাজ্যজুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সকলেই এখন এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন— একটি হাসপাতাল কি আর নিরাপদ জায়গা রইল না?








