তিন সপ্তাহের টানা তদন্তে আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে উদ্ধার অভিযান সফল, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা রুজু
সাব্রুম, ত্রিপুরা । ১১ নভেম্বর ২০২৫ঃ দীর্ঘ তিন সপ্তাহের অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর অবশেষে বিশাল সাফল্য অর্জন করল সাব্রুম থানার পুলিশ। নিখোঁজ এক নাবালিকা ছাত্রীকে নেপাল থেকে উদ্ধার করে অভিযুক্ত অপহরণকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই অভিযানের ফলে সাব্রুম থানার তৎপরতা ও দক্ষতা ফের প্রশংসিত হচ্ছে প্রশাসনিক মহলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর সাব্রুম এলাকার এক স্কুলছাত্রী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই শুরু হয় তৎপরতা। তদন্তের শুরু থেকেই পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করতে থাকে। সেই সূত্রেই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় চাঞ্চল্যকর তথ্য—নিখোঁজ নাবালিকাকে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালের ডং জেলার তুলশীপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি জটিল হলেও হাল ছাড়েনি সাব্রুম থানার পুলিশ। প্রশাসনিক অনুমতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নেপাল পুলিশের সহযোগিতায় গঠন করা হয় বিশেষ উদ্ধার দল। টানা অনুসন্ধানের পর অবশেষে তুলশীপুর গ্রামের এক বাড়ি থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, তাকে সেখানে রাখা হয়েছিল অপহরণকারীর সৎমায়ের হেফাজতে।
অবশেষে, ৯ নভেম্বর বিমানে করে উদ্ধার হওয়া নাবালিকাকে নিরাপদে সাব্রুমে ফিরিয়ে আনা হয়। এর ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ১০ নভেম্বর, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের সূত্র ধরে অভিযুক্ত কৃষ্ণ ঠাকুর (বয়স ৩৫), যিনি অসমের কোকরাঝাড় জেলার বাসিন্দা, তাকে গ্রেফতার করে সাব্রুম থানার পুলিশ।
এই সফল অভিযান সম্পর্কে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক নিত্যানন্দ সরকার বলেন,
“জেলা পুলিশ সুপার মড়িয়া কৃষ্ণা, এএসপি (আইপিএস) বিশাল কুমার, ওসি ওপু দাস এবং গোটা তদন্ত দল একযোগে অসাধারণ কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে এমন উদ্ধার অভিযান নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।”
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত এখনও চলমান।
এই ঘটনায় সাব্রুম থানার সাফল্য শুধু স্থানীয় নয়, গোটা রাজ্যে পুলিশের কার্যকর ভূমিকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।








