গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জেলা স্তরের যুব উৎসব ও বিজ্ঞান মেলা ২০২৫–২৬; উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্তা ও বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ
কুমারঘাট, ত্রিপুরা । রিপোর্ট- রুকন পালঃ আজ উনকোটি জেলার কুমারঘাটের গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর আয়োজিত জেলা স্তরের যুব উৎসব ও বিজ্ঞান মেলা ২০২৫–২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। পুরো অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবিয়াছড়া বিধানসভার বিধায়ক ভগবান দাস।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্রী অমলেন্দু দাস, শিক্ষাবিদ শ্রীমতি সুমতী দাস, এবং প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে এস.ডি.এম শ্রী এন. এস. চাকমাসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় অনুষ্ঠানের। জাতীয় সংগীতের সুরে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় গোটা অডিটোরিয়ামে। এর পরপরই শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যেখানে স্থানীয় শিল্পীরা নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির মাধ্যমে ত্রিপুরার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরেন।
বিধায়ক ভগবান দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“এই মহতী উদ্যোগ আমাদের তরুণ প্রজন্মকে তাদের প্রতিভা, দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটানোর এক অসাধারণ মঞ্চ প্রদান করে। বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া—এই তিনটি ক্ষেত্রেই আজকের যুব সমাজের অংশগ্রহণ আমাদের সমাজকে আরও সমৃদ্ধ ও অগ্রসর করবে।”
তিনি আরও বলেন,
“ত্রিপুরার উন্নয়নে যুব সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের উদ্যম, মেধা ও পরিশ্রমই আত্মনির্ভর ও উন্নত ভারতের ভিত্তি স্থাপন করবে। সরকার যুবসমাজের প্রতিটি ইতিবাচক প্রয়াসে পাশে রয়েছে এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানা প্রকল্প চালু করেছে।”
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা রাখেন এস.ডি.এম এন. এস. চাকমা, যিনি তরুণদের বিজ্ঞানচেতনা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, আধুনিক যুগে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নে যুবসমাজই হতে পারে পরিবর্তনের অগ্রদূত।
অনুষ্ঠানের পরপরই শুরু হয় বিজ্ঞান মেলার প্রদর্শনী। জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ও যুব সংগঠনের অংশগ্রহণে একাধিক বিজ্ঞানপ্রকল্প প্রদর্শিত হয়, যেখানে তরুণরা পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য শক্তি, কৃষি প্রযুক্তি, ও ডিজিটাল উদ্ভাবন নিয়ে তাদের গবেষণা তুলে ধরে। দর্শকদের ভিড়ে মেলা প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।
এছাড়াও, দিনভর চলতে থাকে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বিতর্ক, লোকনৃত্য, সংগীত, কুইজ এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা জানান, এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু প্রতিভা বিকাশ নয়, বরং তরুণ সমাজকে সমাজগঠনের কাজে উদ্বুদ্ধ করে। এক অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর কথায়,
“এই মঞ্চ আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। আমরা আমাদের চিন্তা, উদ্ভাবন ও সংস্কৃতিকে প্রকাশ করার সুযোগ পাই।”
উৎসবের সার্বিক পরিচালনা ও সমন্বয়ে ছিলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনুষ্ঠান শেষে কুমারঘাটের আকাশে প্রতিধ্বনিত হয় একটাই স্লোগান —
“যুবরাই দেশের ভবিষ্যৎ, তাদের হাতেই আগামী ভারতের দিশা।”








