আসন্ন এডিসি ভিলেজ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি যুব মোর্চার ব্যাপক জনসংযোগ কর্মসূচি — লক্ষীছড়া এডিসি ভিলেজ অফিস মাঠে অনুষ্ঠিত প্রকাশ্য যুব সমাবেশে উপস্থিত শতাধিক কর্মী-সমর্থক।
শান্তিরবাজার , ত্রিপুরা .০৯ নভেম্বর ২০২৫ঃ ত্রিপুরা রাজ্যে আসন্ন এডিসি ভিলেজ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তুঙ্গে। নির্বাচনের প্রাকমুহূর্তে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে মাঠে নেমেছে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ৩৬ শান্তিরবাজার মণ্ডলের যুব মোর্চার উদ্যোগে আয়োজিত হলো এক বর্ণাঢ্য প্রকাশ্য যুব সমাবেশ, যা অনুষ্ঠিত হয় শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত লক্ষীছড়া এডিসি ভিলেজ কার্যালয় মাঠে।

আজকের এই জমজমাট অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি তথা বিধায়ক শ্রী সুশান্ত দেব, বিজেপির প্রদেশ সহ-সভাপতি ও এমডিসি শ্রী বিদ্যুৎ দেববর্মা, যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি শ্রী রামপ্রসাদ শীল, শান্তিরবাজার মণ্ডল সভাপতি শ্রী দেবাশিস ভৌমিক, কৃষাণ মোর্চার দক্ষিণ জেলা সভাপতি শ্রী সত্যব্রত সাহা, এবং জনজাতি মোর্চার বিশিষ্ট নেতা শ্রী পরিতোষ দেববর্মাসহ বহু নেতৃত্ব।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি রামপ্রসাদ শীল, এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের অন্যান্য নেতৃত্ব। ভোর থেকেই মণ্ডল জুড়ে কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় জমতে থাকে মাঠ প্রাঙ্গণে। যুবকদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বিজেপির পতাকা, ব্যানার, স্লোগান আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক সুশান্ত দেব তীব্র আক্রমণ শানান বিরোধী বাম ও কংগ্রেস জোটের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “জনগণকে বিভ্রান্ত করে, মিথ্যা প্রচার চালিয়ে কিংবা চক্রান্ত করে বিজেপিকে থামানো যাবে না। আজ দেশের যুব সমাজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের রাজনীতি বুঝে গেছে। তারা জানে, কে দেশের জন্য কাজ করছে আর কে কেবল ভোটের সময় মুখ দেখায়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ত্রিপুরা আজ উন্নয়নের পথে দ্রুত এগোচ্ছে। জনজাতি অঞ্চল থেকে শহর পর্যন্ত উন্নয়ন দৃশ্যমান। তাই জনগণ বিভ্রান্তির রাজনীতি গ্রহণ করবে না। এডিসি নির্বাচনে বিজেপি আবারও বিপুল ভোটে জয়ী হবে।”
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এমডিসি বিদ্যুৎ দেববর্মা, যিনি বলেন, “এডিসি এলাকা এখন উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার নেতৃত্বে প্রত্যন্ত গ্রামেও সরকারি প্রকল্প পৌঁছে যাচ্ছে। বিরোধীরা সেটা সহ্য করতে না পেরে বিভাজনের রাজনীতি করছে।”
অন্যান্য বক্তারাও বিজেপির সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রতিটি বুথে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
দিনের এই যুব সমাবেশে উপস্থিত যুবক-যুবতীদের উদ্দীপনা, সংগঠনের স্লোগান এবং নেতৃত্বের বক্তব্যে গোটা এলাকা উৎসবের আমেজে ভরে ওঠে। বক্তারা বলেন, বিজেপির মূল লক্ষ্য উন্নয়ন, ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা; অন্যদিকে বিরোধীরা কেবল বিভ্রান্তি ছড়াতে ব্যস্ত।
যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি রামপ্রসাদ শীল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি বুথে যুবকদের সক্রিয়ভাবে মাঠে নামানো। প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত সবাই যুবশক্তির উপর নির্ভর করেন। যুবকরাই আগামী দিনের ত্রিপুরা গড়ে তুলবে।”
দিনের শেষে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের পরিসমাপ্তি ঘটে।








