বন্দেমাতরমের ১৫০তম বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা সহ বিশিষ্টজনেরা। দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা ছড়াল গোটা অনুষ্ঠানে।
খোয়াই , ত্রিপুরা । রিপোর্ট- কালীদাস ভৌমিকঃ দেশপ্রেম, ঐক্য এবং জাতীয় চেতনার প্রতীক ‘বন্দে মাতরম’— এই কালজয়ী মন্ত্রের ১৫০তম বর্ষ উদযাপনকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই উৎসবের আবহ দেখা যায় আগরতলার দশরথ দেব মেমোরিয়াল কলেজ প্রাঙ্গণে। সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় দিনব্যাপী এই উদযাপন অনুষ্ঠান, যেখানে অংশ নেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট নাগরিক, ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানের সূচনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ‘বন্দে মাতরম’ সংগীতের সম্মিলিত গানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কলেজ চত্বর। এরপর একে একে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কবিতা পাঠ, দেশাত্মবোধক গান ও আলোচনা সভা।
এই ঐতিহাসিক দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা ও জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। দুই মন্ত্রীই দেশপ্রেম, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেন ছাত্র-ছাত্রী ও উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে।
বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, “বন্দে মাতরম শুধু একটি গান নয়, এটি আমাদের জাতীয় আত্মার প্রতিফলন। ১৫০ বছর পেরিয়েও এই মন্ত্র আজও আমাদের প্রেরণার উৎস।”
অন্যদিকে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, “দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ত্যাগের যে শিক্ষা বন্দে মাতরম আমাদের দেয়, তা আজকের তরুণ প্রজন্মের মনে ছড়িয়ে দিতে হবে।”
অনুষ্ঠান শেষে দুই মন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই আয়োজনের তাৎপর্য নিয়ে মত প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই ধরনের অনুষ্ঠান শুধু অতীতকে স্মরণ করায় না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে তুলতে সাহায্য করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ, স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা ও অসংখ্য ছাত্রছাত্রী। দেশপ্রেমের আবহে ভরে ওঠে গোটা ক্যাম্পাস। দিনব্যাপী এই আয়োজনে জাতীয় পতাকা, সঙ্গীত, ও আলোচনার মাধ্যমে দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সবাই।
‘বন্দে মাতরম’-এর এই ১৫০ বছরের উদযাপন যেন এক নব উন্মেষ ঘটায় তরুণ সমাজের মনে— মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা, ঐক্য ও গৌরবের অঙ্গীকারে।








