মনফোর্ট স্কুলের ছাত্রছাত্রী বহনকারী বাস উল্টে মারাত্মক দুর্ঘটনা; গুরুতর আহত অন্তত ৮ থেকে ৯ জন পড়ুয়া ও এক মহিলা পথচারী — তদন্তে নেমেছে পুলিশ, কারণ ঘিরে রহস্য।
ত্রিপুরা । ৭ নভেম্বর ২০২৫ঃ কাঁঠালতলি বাইপাস সড়কে আজ সকালে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মনফোর্ট স্কুলের ছাত্রছাত্রী বহনকারী একটি স্কুল বাস ভয়ঙ্করভাবে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সকাল প্রায় আটটা নাগাদ হঠাৎই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক।

বাসটিতে থাকা প্রায় ২০ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে অন্তত ৮ থেকে ৯ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, রাস্তার ধারে হাঁটতে থাকা এক মহিলা পথচারীও মারাত্মকভাবে আহত হন। দ্রুত সকলকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় হাঁপানিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটির নাম্বার TR01F-4324। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনফোর্ট স্কুলের এই বাসটি প্রতিদিনের মতোই সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রছাত্রীদের তুলে স্কুলের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বাইপাসের মোড়ে এসে বাসটি ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তার একপাশে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।
এলাকাবাসীরা প্রথমেই ছুটে যান উদ্ধারকাজে। তাঁরা আহত শিশুদের বাসের ভেতর থেকে বের করে অচেতন অবস্থায় পাশের দোকানে এনে প্রাথমিক সেবা দেন এবং পরে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান —
“বাসটি খুব গতিতে আসছিল। হঠাৎ এক বাইক আরোহীকে এড়াতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যেই বাস উল্টে যায়। বাচ্চাদের চিৎকার শুনে আমরা ছুটে যাই।”
অন্যদিকে, একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন —
“প্রতিদিন এই রাস্তায় স্কুলবাসগুলো দ্রুত গতিতে ছুটে যায়। বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ সেই অবহেলার ফল এই দুর্ঘটনা।”
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি জব্দ করে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও রাস্তার খানাখন্দই এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তবে সঠিক কারণ জানতে পুলিশ বাসচালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
এদিকে, মনফোর্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—
“দুর্ঘটনার খবর পেয়েই আমরা হাসপাতালে ছুটে গেছি। আহত ছাত্রছাত্রীদের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব স্কুল প্রশাসন নেবে। আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছি।”
কাঁঠালতলি বাইপাস এলাকায় এই দুর্ঘটনার পর থেকেই যান চলাচল প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই সড়কে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে, অথচ প্রশাসনের তেমন নজরদারি নেই। তাঁদের বক্তব্য—
“স্কুলবাস, অটো, ট্রাক— সবাই বেপরোয়া গতিতে চলে। শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জরুরি।”
বর্তমানে আহতরা হাঁপানিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে গুরুতরদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলা জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।
শেষে বলা যায়, স্কুলের গেট থেকে বাড়ি ফেরার নিরাপত্তা— যে জায়গায় প্রতিটি অভিভাবকের আস্থা থাকা উচিত, আজ সেই আস্থাই যেন প্রশ্নের মুখে।








