সরকারি উদ্যোগে শুরু হওয়া রাস্তা সংস্কারের কাজ আটকে দিল স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশ, ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসী — “উন্নয়নের নামে রাজনীতি নয়, চাই কাজের গতি।”
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা । ৭ নভেম্বর ২০২৫ঃ রাজ্যে উন্নয়নের সুর বাজছে, সরকারি প্রকল্পের হাওয়ায় ভেসে আসছে উন্নতির প্রতিশ্রুতি। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা যেন কখনও কখনও অন্য গল্প বলে। এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হল তেলিয়ামুড়া আর.ডি. ব্লকের অন্তর্গত ব্রহ্মছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষিপ্রধান এলাকা, যেখানে বহুল প্রত্যাশিত রাস্তা সংস্কারের কাজ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন ব্রহ্মছড়া কৃষি ফার্ম সংলগ্ন বাঙালি পাড়ার রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত ছিল। বাম আমল থেকেই এলাকাবাসীরা প্রশাসনের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, কিন্তু বারবার আবেদন করেও কোনো সাড়া মেলেনি। অবশেষে বিজেপি সরকারের উদ্যোগে গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের লক্ষ্যে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়, যার জন্য বরাদ্দ হয় প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ টাকা।
ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানে যখন রাস্তার মেটালিং ও কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে, তখনই শুক্রবার দুপুরে আচমকা প্রায় কুড়িজন বিজেপি কর্মী বাইকে করে এসে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। তাঁদের বক্তব্য— “প্রথমে ঠিকাদারকে কৃষ্ণপুর মণ্ডল কার্যালয়ে দেখা করতে হবে, এরপর মণ্ডলের নির্দেশ এলেই কাজ এগোবে, না হলে বন্ধ থাকবে।”
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র এলাকায়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট— “সরকারি উন্নয়নের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। এই রাস্তা আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত— এটা রাজনীতির বিষয় নয়, জীবিকার প্রশ্ন।”
ব্রহ্মছড়া গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, “আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে নই। আমরা চাই কাজ হোক, উন্নয়ন হোক। এই রাস্তা শুধু চলাচলের পথ নয়, এটি আমাদের ফসলের প্রাণরেখা।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষাকালে এই রাস্তা দিয়ে বাজারে ফসল পৌঁছানো একপ্রকার দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে গ্রামবাসীরাই প্রতি পরিবার পিছু ৬০০ টাকা করে তুলে নিজেরাই মাটি ফেলে রাস্তা সচল করেছিলেন।
বর্তমানে সরকার যেখানে উন্নয়নের অর্থ বরাদ্দ করে কাজ শুরু করেছে, সেখানে দলীয় হস্তক্ষেপ বা অযাচিত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা প্রশাসনিক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এক প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, “এ ধরনের ঘটনায় উন্নয়নের গতি মন্থর হয়, জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।”
অন্যদিকে, গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, তাঁরা শিগগিরই প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন, যাতে কাজটি পুনরায় নির্বিঘ্নে চালু করা যায় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শেষে গ্রামবাসীর এক জোরালো বার্তা—
“উন্নয়নের কাজে রাজনীতি ঢুকলে ক্ষতি জনগণেরই। আমরা চাই না উন্নয়নের রাস্তা আবার কাঁদায় হারিয়ে যাক।”








