উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে আগরতলায় গড়ে উঠছে আধুনিক মেডিকেল হাব — চার ধাপে সম্পন্ন হবে বিশাল এই উদ্যোগ।
ত্রিপুরা তথা সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে রাজ্য। মনিপুর-ভিত্তিক শিজিয়া হসপিটালস রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রাইভেট লিমিটেড (SHR) আগরতলায় একটি বিশ্বমানের সুপার-স্পেশালিটি হসপিটাল এবং ভবিষ্যতে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে।
Read more: Shijia Hospital: ত্রিপুরায় স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত।ত্রিপুরা তথা সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে রাজ্য। মনিপুর-ভিত্তিক শিজিয়া হসপিটালস রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রাইভেট লিমিটেড (SHR) আগরতলায় একটি বিশ্বমানের সুপার-স্পেশালিটি হসপিটাল এবং ভবিষ্যতে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে।

আগামী ৮ই নভেম্বর আগরতলায় রোগী দেখবেন ও অপারেশন করবেন।
📞 যোগাযোগ করুন – 8014251101
এই প্রকল্পটি শুধু চিকিৎসা নয়, বরং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Shijia Hospital প্রকল্পের ধাপে ধাপে পরিকল্পনা:
প্রথম ধাপ (০–২৪ মাস):
প্রথম ধাপে ১৪৮ শয্যার একটি আধুনিক সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। এখানে থাকবে জেনারেল মেডিসিন, সার্জারি, ডায়াগনস্টিক সার্ভিস, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি ও নিউরোলজির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসা বিভাগ।
এই ধাপে আনুমানিক ১২৯.৫২ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে, এবং প্রায় ৬৫০ জন প্রত্যক্ষ ও ৫২০ জন পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
দ্বিতীয় ধাপ (২৫–৪৮ মাস):
এই ধাপে আরও ১৫০টি শয্যা যোগ করা হবে, ফলে মোট শয্যা সংখ্যা দাঁড়াবে ২৯৮-এ।
এই পর্যায়ে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ও ব্যাচেলর মেডিকেল কোর্স চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
খরচের পরিমাণ ১০৯.৭২ কোটি টাকা, এবং এতে ৭০০ জন প্রত্যক্ষ ও ৬০০ জন পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তৃতীয় ধাপ (৪৯–৭২ মাস):
তৃতীয় ধাপে আরও ১২০টি শয্যা যুক্ত করে মোট শয্যা সংখ্যা দাঁড়াবে ৪১৮।
এই পর্যায়ে গড়ে তোলা হবে ওয়েলনেস ও লাইফস্টাইল সেন্টার, পাশাপাশি মেডিকেল ট্যুরিজম বা চিকিৎসা পর্যটন উন্নয়নের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই ধাপের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৬৭.৪৯ কোটি টাকা, কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৬৫০ জন প্রত্যক্ষ ও ৪৮০ জন পরোক্ষ।
চতুর্থ ধাপ (৭৩–১০৮ মাস):
প্রকল্পের চূড়ান্ত ধাপে আরও ২৫০টি শয্যা যোগ করে মোট শয্যা সংখ্যা পৌঁছবে ৬৬৮-এ।
এ পর্যায়ে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ধাপে খরচ হবে প্রায় ৬০০.২০ কোটি টাকা, এবং কর্মসংস্থান হবে ৫০০ জন প্রত্যক্ষ ও ১৪০০ জন পরোক্ষ।
এই বিশাল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ত্রিপুরাকে স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিকেল শিক্ষার এক নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য রাজ্যে যেতে হবে না। পাশাপাশি রাজ্যের তরুণ ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া, এই প্রকল্প রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন-এর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ত্রিপুরার মাটিতে শিজিয়া হসপিটালস-এর এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, তা শুধু রাজ্যের নয়, পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জনমানসে দেখা দিয়েছে আশাবাদের সুর।








