খুদ শহরের বুকে থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে সরকারি বিদ্যালয়ে দুঃসাহসিক চুরি – ১০টিরও বেশি রুম ও আলমিরা ভাঙচুর, স্কুল চত্বরে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়।
খোয়াই, ১২ই সেপ্টেম্বর: খোয়াই শহরের অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী বালিকা বিদ্যালয় রাতের আঁধারে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রেই থানা থেকে একেবারে ঢিল ছোড়া দূরত্বে এই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।
আজ সকালে স্কুল খুলতেই শিক্ষক-শিক্ষিকারা ভেতরের ভয়াবহ চিত্র চোখে দেখে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যান। খবর পেয়ে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, রাতের অন্ধকারে চুরের দল ৯-১০টি রুমের তালা ভেঙে ২৫ থেকে ২৭টি আলমিরা ভেঙে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের সিসিটিভি বক্স পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে তারা। ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বিঘ্নে এই ভাঙচুর ও চুরি চালিয়েছে চোরের দল, কারণ স্কুলে নাইট গার্ড প্রায় অনুপস্থিত বললেই চলে।
শিক্ষকদের মতে, বিদ্যালয়ে এর আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। শহরের কেন্দ্রস্থলে, বিশেষ করে থানার কাছাকাছি এলাকায় এ ধরনের বড়সড় চুরির ঘটনা ঘটায় শিক্ষামহল থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলছেন, যদি একটি সরকারি বিদ্যালয়ই নিরাপদ না হয়, তবে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কতটা নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুরির ঘটনা তদন্তে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পুলিশ আশপাশের এলাকায় নজরদারি ও খোঁজখবর চালাচ্ছে।
জনমনে প্রশ্ন
শহরের বুকেই যখন পুলিশের চোখের সামনে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটতে পারে, তখন সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ? বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিরাপত্তার জোরদার দাবি জানিয়েছেন।
খোয়াই সরকারি দ্বাদশ শ্রেণী বালিকা বিদ্যালয়ে এই চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন শুধু শিক্ষামহলই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শারদীয়া উৎসবের প্রাক্কালে শহরে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।








