রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে গৃহবধূ, অষ্টম শ্রেণির কন্যাও নিস্তার পায়নি; পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ স্থানীয়দের।
ফটিকরায় থানাধীন তরুণীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২নং ওয়ার্ডে ঘটে গেছে এক বর্বরোচিত হামলা। এলাকায় স্কুলের পাশে প্রকাশ্যে দেদার মদ বিক্রির প্রতিবাদ জানানোয় এক নিরীহ গৃহবধূকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ফটিকরায়, ত্রিপুরা । ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ঃ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই লোমহর্ষক ঘটনার শিকার হয়েছেন হরিপদ মজুমদারের স্ত্রী অঞ্জু মজুমদার। এলাকার কথিত মদ ব্যবসায়ী বিপ্লব মজুমদার, তাঁর স্ত্রী রিনা মজুমদার এবং ছেলে পঙ্কজ মজুমদার মিলে অঞ্জু মজুমদারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়, মাটিতে ফেলে বাঁশ দিয়ে নৃশংসভাবে প্রহার করা হয়। এমনকি তাঁর অষ্টম শ্রেণির নাবালিকা কন্যাও এই পাশবিক আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি; তাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই দৃশ্যটি কল্পনা করাও কঠিন, যেখানে একজন মা ও তাঁর সন্তানকে শুধুমাত্র একটি ন্যায্য প্রতিবাদের জন্য এমন নারকীয় পরিস্থিতির শিকার হতে হলো।
আক্রান্ত অঞ্জু মজুমদারকে গুরুতর জখম অবস্থায় প্রথমে ফটিকরায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে কৈলাসহর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল কিনা, সে বিষয়ে আমরা এখনও বিস্তারিত তথ্য পাইনি, তবে চিকিৎসকরা তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন।
ঘটনার সময় অঞ্জুর স্বামী হরিপদ মজুমদার বাড়িতে ছিলেন না। তিনি জীবিকার তাগিদে আগরতলায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই এই হামলা চালানো হয়, যা হামলাকারীদের পূর্বপরিকল্পনার দিকেই ইঙ্গিত করে।
এলাকার বাসিন্দারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ঘটনার এতক্ষণ পার হয়ে গেলেও ফটিকরায় থানার পুলিশ কেন এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি? কেন তাদের গ্রেফতার করা হয়নি? স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের মদতে অপরাধীরা নির্ভয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে এবং পুলিশ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এই নিষ্ক্রিয়তা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।
আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দ্রুততার সাথে এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই। সমাজের প্রতিটি স্তরে এমন বর্বরোচিত ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করি, এই ঘটনার সুবিচার হবে এবং অঞ্জু মজুমদার ও তাঁর পরিবার ন্যায় বিচার পাবে।








