মাননীয় মন্ত্রী শ্রী টিঙ্কু রায়ের উপস্থিতিতে চন্দ্রমহলে ঐতিহাসিক উনাকোটির অনুপ্রেরণায় তৈরি গহনা সংগ্রহের শুভ সূচনা। নন্দদুলাল দেবনাথের সৃজনশীলতায় ঐতিহ্য ও জ্যোতিষের মেলবন্ধন, ৩২৭ মুক্তোর নেকলেসে বৃহস্পতির আশীর্বাদ।
আগরতলা । ৩০ আগস্ট ২০২৫ঃ ত্রিপুরার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করলো রাধাকৃষ্ণ জুয়েলারি। আজ, আগরতলার চন্দ্রমহলে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরার সুপ্রাচীন ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ উনাকোটির অণুপ্রেরণায় তৈরি বিশেষ গহনা সংগ্রহ ‘উনাকোটি ট্রেজারস’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ত্রিপুরার মাননীয় ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী টিঙ্কু রায়ের বাসভবনে এক বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়, যা এই উদ্যোগের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের মাননীয় ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী টিঙ্কু রায়। তাঁর উপস্থিতি এই আয়োজনে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে এবং স্থানীয় ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার এই ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টার তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। মন্ত্রী মহোদয় বলেন, “রাধাকৃষ্ণ জুয়েলারির এই উদ্যোগ কেবল ব্যবসা নয়, এটি ত্রিপুরার শিল্প-সংস্কৃতি এবং ইতিহাসকে নতুন আঙ্গিকে বিশ্বের সামনে উপস্থাপনের একটি সুযোগ। ‘উনাকোটি ট্রেজারস’ নিঃসন্দেহে ত্রিপুরার গৌরব বৃদ্ধি করবে।”
‘উনাকোটি’ নামটি ত্রিপুরার প্রাচীন কিংবদন্তি এবং আধ্যাত্মিকতার সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। লোককথা অনুযায়ী, এই স্থানটি এক কোটি দেবদেবীর মিলনস্থল ছিল। কিন্তু শিবের অভিশাপের কারণে সেখানে এক কোটিরও কম, অর্থাৎ ৯৯,৯৯,৯৯৯টি দেবদেবীর মূর্তি তৈরি হয়। এই রহস্যময় গল্প এবং পাথরে খোদাই করা দেবদেবীর অসাধারণ ভাস্কর্যগুলিই ‘উনাকোটি ট্রেজারস’ সংগ্রহের মূল অনুপ্রেরণা। প্রতিটি গহনার নকশায় উনাকোটির সেই প্রাচীন শিল্পকলা ও আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া সুস্পষ্ট।

এই অসাধারণ সংগ্রহের নকশা ও ধারণার পিছনে রয়েছেন রাধাকৃষ্ণ জুয়েলারির তৃতীয় প্রজন্মের এক স্বপ্নদ্রষ্টা উত্তরসূরী, নন্দদুলাল দেবনাথ। মুম্বাইয়ের জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ আমেরিকা (GIA) থেকে জুয়েলারি ডিজাইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর, তিনি ত্রিপুরার লোকশিল্প, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক গহনার নকশার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ‘উনাকোটি ট্রেজারস’ হলো সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ।
এই সংগ্রহের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ৩২৭টি উজ্জ্বল মুক্তো দিয়ে তৈরি একটি অনন্য নেকলেস। এই নেকলেসটির নকশায় কেবল সৌন্দর্যই নয়, লুকিয়ে আছে গভীর জ্যোতিষশাস্ত্রীয় তাৎপর্য। সংখ্যার রহস্য অনুযায়ী (৩+২+৭=১২, এবং ১+২=৩), এই নেকলেসটি জাদুকরী সংখ্যা ‘৩’ প্রকাশ করে। জ্যোতিষশাস্ত্রে, এই সংখ্যাটি সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য এবং জ্ঞানের গ্রহ বৃহস্পতির সাথে যুক্ত। তাই, এই অসাধারণ সৃষ্টি কেবল একটি অলঙ্কার নয়, এটি পরিধানকারীর জীবনে সাফল্য, ঐশ্বর্য এবং মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বৃহস্পতির আশীর্বাদ বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা একবাক্যে স্বীকার করেন যে ‘উনাকোটি ট্রেজারস’ কেবল রাধাকৃষ্ণ জুয়েলারির জন্য নয়, বরং সমগ্র ত্রিপুরার জন্য এক গর্বের বিষয়। এটি ত্রিপুরার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং ইতিহাসকে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার একটি সাহসী ও সৃজনশীল পদক্ষেপ। এই উদ্যোগটি ত্রিপুরার হস্তশিল্প ও সংস্কৃতিকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে এবং রাজ্যের পর্যটন শিল্পকেও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।









