তেলিয়ামুড়ার মোহরছড়ার লালটিলা গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, একজন প্রভাবশালী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, নিখিল চন্দ্র দাস, তার ছোট ভাই দিলীপ দাসের চায়ের দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা: তেলিয়ামুড়ার মোহরছড়ার লালটিলা গ্রামে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মক রূপ নিল। অভিযোগ, প্রভাবশালী বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিখিল চন্দ্র দাস, দলবল নিয়ে এসে ছোট ভাই দিলীপ দাসের একমাত্র আয়ের উৎস, একটি চায়ের দোকান, ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনায় অসহায় দিলীপ দাস তেলিয়ামুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী দিলীপ দাসের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে কোনোমতে তার সংসার প্রতিপালন করেন। কিন্তু তার বড় ভাই, নিখিল চন্দ্র দাস, যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং যার ছেলে একজন প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক, বেশ কিছুদিন ধরেই তাকে এই দোকান তুলে দেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। দিলীপ বাবুর দাবি, পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর তার অধিকার ত্যাগ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই এই হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

ঘটনার দিন, বৃহস্পতিবার, দিলীপ দাস যখন দোকানে ছিলেন না, সেই সুযোগে নিখিল চন্দ্র দাস একদল লোক নিয়ে এসে তার চায়ের দোকানটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ। দোকানের ভিতরে থাকা সমস্ত জিনিসপত্রও নষ্ট করে ফেলা হয়। এই ঘটনায় দিলীপ দাসের পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে, কারণ এই দোকানটিই ছিল তাদের একমাত্র আয়ের উৎস।
ঘটনার খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে যে, তারা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে এবং দুই পক্ষকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এহেন আচরণে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ দীর্ঘদিনের, কিন্তু তা যে এমন হিংসাত্মক রূপ নেবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনাটি সমাজের এক অন্ধকার দিককে তুলে ধরেছে, যেখানে পারিবারিক সম্পর্কও সম্পত্তির লোভে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একজন শিক্ষিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায়, তা সমাজের জন্য এক লজ্জাজনক অধ্যায় বলে মনে করছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং দিলীপ দাস বিচার পান কিনা।








