সেকেরকোটের বনেদি ক্লাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগ, ভাঙচুর করা হয় গাড়ি ও সাউন্ড বক্স।
জোলাইবাড়ি, ত্রিপুরা । ১০ আগস্ট । রিপোর্ট- বাহাদুর ত্রিপুরা: নমস্কার, আপনাদের সঙ্গে আমি [অ্যাঙ্করের নাম]। এই মুহূর্তে একটি চাঞ্চল্যকর খবর উঠে আসছে সেকেরকোট থেকে। পাচারকারী সন্দেহে মধুপুর বাজারের এক সাউন্ড ব্যবসায়ী এবং তাঁর ছেলের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আমাদের প্রতিনিধি বাহাদুর ত্রিপুরা।

(প্রতিবেদক, বাহাদুর ত্রিপুরা): ধন্যবাদ [অ্যাঙ্করের নাম]। আজ, রবিবার, এক ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী থাকল সেকেরকোট বাজার সংলগ্ন এলাকা। মধুপুর বাজারের পরিচিত সাউন্ড ব্যবসায়ী, বুরো বণিক এবং তাঁর ছেলে পাপাই বণিককে পাচারকারী সন্দেহে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে সেকেরকোটের বনেদি ক্লাবের সদস্যদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তাঁদের গাড়ি এবং সাউন্ড সিস্টেমও ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন বুরো বণিক ও তাঁর ছেলে ব্যবসায়িক কাজে তাঁদের গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেকেরকোট বাজার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই বনেদি ক্লাবের সদস্যরা তাঁদের পথ আটকায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত ব্যবসায়ী বুরো বণিক সংবাদমাধ্যমের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
(বুরো বণিকের বাইট): “আমরা তো ব্যবসার কাজে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে ক্লাবের ছেলেরা এসে আমাদের গাড়ি থামিয়ে বলে আমরা নাকি পাচারকারী। কিছু বলার সুযোগই দিল না। আমাদের গাড়ি, সাউন্ড বক্স সব ভেঙে দিয়েছে। আমাদেরকেও খুব মেরেছে।”
(প্রতিবেদক): এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মধুপুর এবং সেকেরকোট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আক্রান্ত ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবার এই ঘটনায় পুরোপুরি আতঙ্কিত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের দাবি, কোনো রকম প্রমাণ ছাড়াই শুধুমাত্র সন্দেহের বশে তাঁদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় যুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আপাতত, সেকেরকোট এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে গুজবের জেরে কীভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। এখন দেখার বিষয় পুলিশি তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং দোষীরা কোনো শাস্তি পায় কিনা।








