পতাকা উত্তোলন ও জনসভায় মুখর পোয়াংবাড়ি, সম্পন্ন হলো ত্রিপুরা রাজ্য গণমুক্তি পরিষদের ১৩তম টাক্কা তুলসী অঞ্চল সম্মেলন
পোয়াংবাড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা: রবিবার এক রাজনৈতিক আবহের মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পোয়াংবাড়িতে অনুষ্ঠিত হলো Tripura Rajya Ganamukti Parishad (GMP)-এর ১৩তম টাক্কা তুলসী অঞ্চল সম্মেলন। সংগঠনকে তৃণমূল স্তরে আরও মজবুত করতে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক রূপরেখা তৈরি করতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের প্রতিটি পর্বে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিন পোয়াংবাড়ি মনকড়ই ত্রিপুরা মঞ্চে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। গম্ভীর ও দলীয় শৃঙ্খলার আবহে সম্মেলনের বাইরের কাজের শুভ সূচনা হয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। পার্টির ঐতিহ্যবাহী রক্ত পতাকা উত্তোলন করেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র পলিটব্যুরোর অন্যতম সদস্য তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জীতেন্দ্র চৌধুরী। পতাকা উত্তোলনের পর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়, যা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। এরপর দলীয় নীতি ও আদর্শ মেনে সম্মেলনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সম্মেলনের সমাপ্তি পর্বে পোয়াংবাড়ি বাজার প্রাঙ্গণে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। দিনভর সম্মেলনের পর আয়োজিত এই জনসভায় এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ জমায়েত হন। এই জনসভার প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান সিপিআই(এম) নেতা জীতেন্দ্র চৌধুরী।
তাঁর ভাষণে জীতেন্দ্র চৌধুরী রাজ্যের এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান শাসনে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে এবং তাঁদের ন্যায্য দাবি-দাওয়াকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মানুষের কথা বলার অধিকার, প্রতিবাদ করার অধিকার আজ আক্রমণের মুখে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাঁদের অধিকারের লড়াইকে আরও তীব্রতর করতে হবে।”
বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পার্টির অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, গণমুক্তি পরিষদ সর্বদা রাজ্যের জনজাতি তথা সমস্ত অংশের মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রথম সারিতে থেকে লড়াই করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এক সুস্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র মিটিং-মিছিল করলেই হবে না। সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি করতে হলে মানুষের দরজায় দরজায় যেতে হবে। তাঁদের সুখ-দুঃখের কথা শুনতে হবে এবং নিবিড় জনসংযোগ স্থাপন করতে হবে।” সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গণমুখী করার জন্য প্রতিটি কর্মীকে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।








