“রামপদ পাড়ায় নারকীয় ঘটনা— বালিশ চাপা দিয়ে কন্যা সন্তানকে হত্যা করল সুচিত্রা দেববর্মা”
জোলাইবাড়ি, ১০ আগস্ট । রিপোর্ট- বাহাদুর ত্রিপুরা: সামাজিক অবক্ষয়ের এক মর্মান্তিক এবং বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো সোনামুড়া মহকুমায়। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে নিজের মাত্র পাঁচ মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠল তার জন্মদাত্রী মায়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি আধুনিক সমাজের নৈতিক অধঃপতনের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে ব্যক্তিগত সুখের লালসায় বলি হতে হলো এক নিষ্পাপ শিশুকে।
সোনামুড়া থানা এলাকার রামপদ পাড়া এডিসি ভিলেজে এই হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর আনুমানিক বারোটার দিকে গৃহবধূ সুচিত্রা দেববর্মা তার পাঁচ মাসের শিশুকন্যাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুচিত্রার স্বামী অমিত দেববর্মা পেশায় একজন রাবার টেপিং শ্রমিক এবং তাদের সাত বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে সুচিত্রা দেববর্মা প্রতিবেশী এক ব্যক্তির সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন, যা তাদের পারিবারিক অশান্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই অবৈধ সম্পর্কের জেরেই যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ঘটবে, তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করতে পারেননি।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সোনামুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ এক বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোনামুড়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। অভিযুক্ত মা, সুচিত্রা দেববর্মাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ ধারণা করছে যে, পরকীয়া সম্পর্কের পথে নিজের সন্তানকে বাঁধা হিসেবে মনে করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে।
যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনাটি সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের এই ভয়াবহ রূপ দেখে অনেকেই শিউরে উঠছেন। সমাজের নৈতিক ভিত্তি যে কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।








