গাড়ির দরজার ভিতর লুকানো ছিল গাঁজার ৭০ প্যাকেট, পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা পেল সমাজ।
খোয়াই, ত্রিপুরা । ৮ আগস্ট । রিপোর্ট- কালীদাস ভৌমিকঃ খোয়াই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার রুখতে পুলিশের এক সাহসী এবং সফল অভিযান। শুক্রবার বিকেলে বাইজালবাড়ি থানার পুলিশ, একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়সড় মাদক কারবার আটক করতে সক্ষম হয়েছে। অভিযান চালিয়ে একটি মারুতি গাড়ি থেকে ৭০ প্যাকেট শুকনো গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজন যুবককে।

বিকেল প্রায় পাঁচটা নাগাদ, বেলফাং নাকা পয়েন্টে পুলিশ আগে থেকেই উৎপেতে বসেছিল। গোপন সূত্রে খবর ছিল, একটি গাঁজাভর্তি গাড়ি ওই পথ ধরেই বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
সন্দেহভাজন গাড়িটি ছিল TR-04-E-0342 নম্বরযুক্ত একটি মারুতি গাড়ি। গাড়িটি বেলফাং নাকা পয়েন্টে পৌঁছাতেই পুলিশ তা থামায় এবং তল্লাশি চালাতে শুরু করে।
গাড়ি থামানো মাত্র, দুই যুবক গাড়ি ফেলে পালাতে চেষ্টা করে। পুলিশ তৎক্ষণাৎ তাদের পিছু নেয় এবং সুব্রত দেবনাথ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অপর যুবক পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে খুঁজতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
গাড়ির দরজার ভিতর আলাদা কৌশলে লুকানো ছিল ৭০টি প্যাকেট, যার প্রতিটিতে প্যাকেটজাত অবস্থায় ছিল শুকনো গাঁজা। ওজন মেপে দেখা যায়, মোট ৩৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে এই গাড়ি থেকে।

ওসি যুগল ত্রিপুরা সংবাদমাধ্যমকে জানান—
“গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। মোট ৩৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।”
ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে NDPS আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। গাড়ি সহ সমস্ত মাদকদ্রব্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া গাড়িটি কোন গ্যাং বা সিন্ডিকেটের অধীনে ছিল, এবং কোথা থেকে গাঁজা আনা হয়েছিল—তা জানার জন্য পুলিশ শুরু করেছে জোরদার জেরা ও তদন্ত।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো—ত্রিপুরা এখন মাদক পাচারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হয়ে উঠছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি দিয়ে মাদক পাচারের প্রবণতা বাড়ছে। তবে, পুলিশের তৎপরতায় এবং সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, একের পর এক এই ধরনের অপরাধমূলক চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
একদিকে প্রশাসনের কড়া নজর, অন্যদিকে সচেতন নাগরিক সমাজ—এই দুই মিলেই গড়ে উঠতে পারে মাদকমুক্ত ত্রিপুরা। বেলফাং-এর এই সাফল্য নিঃসন্দেহে একটি বার্তা—পুলিশ প্রস্তুত, সমাজও যেন সতর্ক থাকে।








