বিএসএফ জওয়ান, সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণ পেয়েছে এই মানবিক উদ্যোগ
জোলাইবাড়ি । রিপোর্ট: বাহাদুর ত্রিপুরা : “রক্ত দান, জীবন দান”—এই মানবিক ও প্রেরণাদায়ক শ্লোগানকে সামনে রেখে, ঊনআশি তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দক্ষিণ জেলার জেলাশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত হলো এক অনন্য স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির।
শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে বিলোনীয়া এমপ্লয়িস রিক্রিয়েশন ক্লাব, দক্ষিণ জেলার জেলা প্রশাসন এবং দক্ষিণ জেলা পরিষদ মিলিতভাবে।
শিবিরের শুভ উদ্বোধন হয় প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে। প্রদীপ জ্বালিয়ে শিবিরের উদ্বোধন করেন দক্ষিণ জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত।
উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলার জেলাশাসক মোহাম্মদ সাজ্জাদ পি, অতিরিক্ত জেলা শাসক সহ জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ।
শুভ উদ্বোধনের পর অতিথিরা রক্তদাতাদের উদ্দেশ্যে উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্য রাখেন এবং সরেজমিনে রক্তদানের স্থান পরিদর্শন করেন।
দক্ষিণ জেলার জেলাশাসক বলেন,
“ঊনআশি তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আমাদের তরফে এই মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগ্রহ করা। আমরা আশাবাদী, সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে সফল করে তুলবেন।”
জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত বলেন,
“আগে রক্তদানে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ভয় কাজ করত। কিন্তু আজ সেই ধারণা অনেকটাই পাল্টে গেছে। জেলাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে রক্তদান শিবির হচ্ছে, এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছেন। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
এই শিবিরে অংশগ্রহণ করেন—
- ৪৩ নম্বর ব্যাটেলিয়নের বিএসএফ জওয়ানরা
- জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিক ও কর্মীরা
- বিলোনীয়া পুর পরিষদের প্রতিনিধিরা
- সাংবাদিক মহল এবং বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা
শিবিরে অংশগ্রহণকারী রক্তদাতাদের মধ্যে ছিল প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা। অনেকে প্রথমবারের মতো রক্তদান করতে এসেছিলেন, অনেকে আবার নিয়মিত রক্তদাতা হিসেবেই শিবিরে উপস্থিত হন। অতিথিরা রক্তদাতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মতবিনিময় করেন, তাঁদের বুকে ব্যাজ পরিয়ে সম্মান জানান এবং মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
শিবিরজুড়ে ছিল সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা, এবং প্রশিক্ষিত মেডিকেল টিম। রক্ত সংগ্রহের কাজ চলে অত্যন্ত সুচারুভাবে।
স্বাধীনতা দিবসের আগমুহূর্তে এই ধরণের উদ্যোগ শুধুমাত্র মানবতার বার্তা বহন করে না, বরং সমাজকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সহানুভূতিশীল মুখচ্ছবি উপহার দেয়।
রক্তদানের মতো মহৎ কাজে সরকার, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের এমন সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয়।








