JIO 5G: দুর্গাপুরে জিও ৫জি টাওয়ার বসানো নিয়ে চরম উত্তেজনা—টাওয়ার ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

টাওয়ার বসানোর কাজ ৮০% শেষ, এখন আর কিছু করার নেই—জমির মালিক শিবেন দে’র মন্তব্যে বাড়ছে বিতর্ক।

কৈলাসহর, উত্তর ত্রিপুরাঃ ত্রিপুরার কৈলাসহর শহরের দুর্গাপুর ১৬ নম্বর ওয়ার্ড—একটি শান্ত, জনবহুল আবাসিক এলাকা। কিন্তু সম্প্রতি এই এলাকাটি উত্তেজনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কারণ—a JIO 5G মোবাইল টাওয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে দ্বন্দ্ব, ক্ষোভ এবং বিক্ষোভ।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার দুপুর বেলা, যখন এলাকাবাসীরা জানতে পারেন যে, তাঁদের পাড়ার মধ্যেই একটি জিও কোম্পানির JIO 5G টাওয়ার বসানো হচ্ছে। আর এই টাওয়ার বসানো হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা শিবেন দে-র ব্যক্তিগত জমিতে। যদিও কাজ শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে, কিন্তু বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন—তাঁদের এই বিষয়ে আগে কিছুই জানানো হয়নি।

? (ভয়েসওভার)
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই টাওয়ারের নির্মাণস্থলে জমায়েত হন পাড়ার মানুষজন। তারা সরাসরি কাজ বন্ধের দাবি তোলেন এবং নির্মাণস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানান।


“এই এলাকাটা ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে আগে থেকেই একটা এয়ারটেল টাওয়ার আছে। তার পাশে আবার নতুন করে জিও টাওয়ার বসালে বাচ্চাদের, বয়স্কদের, অসুস্থ মানুষের শরীরের উপর খারাপ প্রভাব পড়বে। আমরা তো কিছুই জানি না, এখন কাজ শুরু হয়ে গেছে—এটা কীভাবে চলবে?”


স্থানীয়দের আশঙ্কা—টাওয়ার থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা ও উচ্চমাত্রার ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের কারণে ভবিষ্যতে হতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য। তারা দাবি করেছেন—শুধু উন্নয়নের নাম করে জনসাধারণের স্বাস্থ্যের সাথে কোনও আপস করা যাবে না।

এই বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীরা জেলাশাসক, মহকুমা শাসক ও পুরপরিষদের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তাই বাধ্য হয়েই তারা সরাসরি নির্মাণস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হন


এই ঘটনায় এলাকাবাসীদের পাশে এসে দাঁড়ান পুরপরিষদের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিমা মালাকার এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুমা সূত্রধর ঘোষ। তাঁরা এলাকাবাসীর বক্তব্যকে সমর্থন করে আশ্বস্ত করেন—এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হবে।


“বাসিন্দারা যে দাবি করছেন, সেটা যুক্তিসঙ্গত। স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম আপস করা যায় না। আমরা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করব।”

? (ভয়েসওভার – অন্য দিকের বক্তব্য)
অন্যদিকে, জমির মালিক শিবেন দে সংবাদমাধ্যমকে জানান—টাওয়ার বসানোর সিদ্ধান্ত তিনি একা নেননি, এবং কাজ শুরুর সময় কোনও পক্ষ থেকে কোনও লিখিত বা মৌখিক আপত্তি করা হয়নি। তাঁর কথায়—

? (শিবেন দে-র বক্তব্য)
“এখন ১০০ শতাংশ কাজের মধ্যে ৮০ শতাংশই শেষ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় কাজ থামানো সম্ভব নয়। তখন কেউ কিছু বলেনি, এখন এসে কাজ থামাতে বলছে—আমার তো আর কিছু করার নেই।”


এই মন্তব্যেই স্পষ্ট—এখন এলাকায় চলছে তীব্র মতবিরোধ। একদিকে জনস্বাস্থ্যের দাবি, অন্যদিকে ব্যক্তিগত মালিকানার অধিকার ও কোম্পানির বিনিয়োগ—এই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি—এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বসানোর আগে পাড়ার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল, এবং প্রয়োজন ছিল প্রশাসনিক স্বচ্ছতা।


এই মুহূর্তে দুর্গাপুর ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যেন দাঁড়িয়ে আছে একটি বড় প্রশ্নের সামনে—উন্নয়নের নামে যদি মানুষের নিরাপত্তা আর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে, তবে সেই উন্নয়ন কতটা গ্রহণযোগ্য?
এখন নজর প্রশাসনের দিকে—তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, এবং এই দ্বন্দ্বের কোনও সমাধান হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

Related Posts

‘Sheesh Mahal’ বিতর্কেই ধাক্কা—দিল্লি ভোটে AAP-এর ভরাডুবির কারণ ব্যাখ্যা রাঘব চাড্ডা-র

‘Sheesh Mahal’ বিতর্কেই ধাক্কা—দিল্লি ভোটে AAP-এর ভরাডুবির কারণ ব্যাখ্যা রাঘব চাড্ডা-র

Read more

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You Missed

পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদ নোটিশ!

পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদ নোটিশ!

‘Sheesh Mahal’ বিতর্কেই ধাক্কা—দিল্লি ভোটে AAP-এর ভরাডুবির কারণ ব্যাখ্যা রাঘব চাড্ডা-র

‘Sheesh Mahal’ বিতর্কেই ধাক্কা—দিল্লি ভোটে AAP-এর ভরাডুবির কারণ ব্যাখ্যা রাঘব চাড্ডা-র

Horoscope Today: আজকের রাশিফল।

Horoscope Today: আজকের রাশিফল।

ZEISS VISION CENTER আগরতলায় উদ্বোধন।

ZEISS VISION CENTER আগরতলায় উদ্বোধন।

আইনের শাসন কি কেবলই ভাষণে? রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

আইনের শাসন কি কেবলই ভাষণে? রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

দেশজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ৮ রাজ্যে IMD-এর অ্যালার্ট।

দেশজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ৮ রাজ্যে IMD-এর অ্যালার্ট।