“শুধু অভিযোগ জানিয়ে নয়, এবার দাবি বাস্তবায়নের পালা”—কৈলাসহরে এলাকাবাসীর হুঁশিয়ারি।
কৈলাসহর, ত্রিপুরা । ৮ আগস্ট ২০২৫ঃ শুক্রবার দুপুরের ঠিক বিকেলবেলা, এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে কৈলাসহরের ইসবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ পাখিরবাদা গ্রামের ৪, ৫ এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক বাসিন্দা একত্রিত হয়ে হাজির হন স্থানীয় PWD অফিসে। তাঁদের দাবি একটাই—অবিলম্বে অরবিন্দ দেবের বাড়ি থেকে বালিছড়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের পুনঃসংস্কার।

এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। খানাখন্দে ভরা, অসংখ্য জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। বর্ষাকালে কাদায় ভরে যায় পুরো পথ, আর শুকনো মরসুমে উড়ে ধুলোর ঝড়। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কেউ পড়ে যাচ্ছে সাইকেল থেকে, কেউ মোটরসাইকেলের ব্রেক না পেয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়ছে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশু, মহিলা ও বয়স্কদের জন্য এই রাস্তা যেন মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এত বছর ধরে এই রাস্তায় যাতায়াত করেও তারা কোনও উন্নয়নের মুখ দেখেনি। পঞ্চায়েত এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বহুবার লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রাস্তা সংস্কার শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকেছে।

তাঁরা জানান, এতদিন মুখ বুজে সহ্য করলেও এখন আর চুপ করে বসে থাকা সম্ভব নয়। তাই তারা দলবদ্ধভাবে আজ PWD অফিসে এসে SDO-র কাছে একটি লিখিত ডেপুটেশন জমা দেন। ডেপুটেশনের মাধ্যমে তাঁরা প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট বার্তা দেন—অবিলম্বে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
“আমরা আজ আর শুধু অভিযোগ জানাতে আসিনি, আমরা এসেছি দাবি জানাতে। আমাদের গ্রামে যে রাস্তা আছে, সেটা কোনও রাস্তা নয়—ওটা মৃত্যুর পথ। কত দুর্ঘটনা হয়েছে, তার হিসাব নেই। এত অভিযোগ করেও কিছু হল না, তাই এবার আমরা নিজেরাই এসেছি PWD অফিসে।”
স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে ক্ষোভ, হতাশা ও বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাস। তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনও রকম রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই তাঁরা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন শুধুমাত্র এলাকার মানুষের নিরাপত্তা এবং যাতায়াতের স্বার্থে।
এদিন তাঁদের এই আন্দোলনের মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় পঞ্চায়েতের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কেন এতদিন ধরে এলাকাবাসীর মৌলিক দাবিগুলো উপেক্ষিত রয়ে গেল, তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—জনগণের ধৈর্যের বাঁধ যখন ভেঙে যায়, তখন তারা প্রশাসনের দরজায় গিয়ে কড়া নাড়া দিতে জানে। এখন দেখার, পাখিরবাদার এই ডেপুটেশন প্রশাসনের ঘুম ভাঙাতে পারে কি না। শুধু আশ্বাস নয়, মানুষ চাইছে দৃশ্যমান উন্নয়ন—একটি নিরাপদ, চলাচলের উপযোগী রাস্তা।








