চীনা সংযোগ ও স্বার্থসংঘাত: ইন্টেল সিইও লিপ-বু তানের অপসারণ চাইলেন ট্রাম্প, চাপে প্রযুক্তি জায়ান্ট।
ওয়াশিংটন, ৭ আগস্ট । নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সরব হয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে, আর এবার তাঁর নিশানায় পড়েছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান #intel_ceo-এর সদ্যনিযুক্ত সিইও লিপ-বু তান। ট্রাম্প প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন, লিপ-বু তান “চরমভাবে স্বার্থসংঘাতে যুক্ত” এবং তাঁর এখনই পদত্যাগ করা উচিত।
ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করে লেখেন:
“The CEO of INTEL is highly CONFLICTED and must resign, immediately. There is no other solution to this problem.”
অর্থাৎ, “ইন্টেল-এর সিইও চরমভাবে স্বার্থসংঘাতের মধ্যে রয়েছেন এবং তাঁকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এই সমস্যার আর কোনো সমাধান নেই।”
এই পোস্টটি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন বাজারে প্রভাব পড়ে। ইন্টেল-এর শেয়ার মূল্য প্রি-মার্কেট ট্রেডিং-এ ৫% হ্রাস পায়, যা প্রযুক্তি জগতে প্রবল আলোড়ন তোলে।
ট্রাম্পের এই দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন সিনেটর টম কটন ইন্টেল বোর্ডকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লিপ-বু তানের অতীত কর্মকাণ্ড এবং চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে।
সিনেটর কটনের চিঠিতে বলা হয়েছে, লিপ-বু তান ২০২১ সাল পর্যন্ত Cadence Design Systems নামক একটি চিপ ডিজাইন কোম্পানির সিইও ছিলেন। এই কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলারও উল্লেখ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, সেই মামলার সময় তান কি ইন্টেল বোর্ডকে তার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন? কিংবা বোর্ড কি তাঁকে চীনা সামরিক বা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ থেকে নিজেকে সরাতে বলেছিল?
বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো— ইন্টেল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প Secure Enclave Program-এ জড়িত, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা হয়। ফলে, একজন সিইও’র ওপর চীনের প্রভাবের সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
intel ceo
ইন্টেল-এর বর্তমান সিইও লিপ-বু তান মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, এমন এক সময়ে যখন কোম্পানিটি বিক্রির নিম্নগামী ধারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। পূর্বতন সিইও প্যাট গেলসিঙ্গার-এর আমলে কোম্পানির রাজস্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। লিপ-বু তান আসার পর নতুন কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছিল।
কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
অনেকে মনে করছেন, এই বিতর্ক ইন্টেল-এর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
এই মুহূর্তে ইন্টেল, হোয়াইট হাউস বা লিপ-বু তানের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ জগতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে ট্রাম্পের এই মন্তব্যে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র ইন্টেল-এর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নয়, বরং চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকেও নতুন করে উস্কে দিতে পারে।








