Modi & Murmu: সংসদ অচলাবস্থার মাঝেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সংসদ অচল, আন্তর্জাতিক চাপ ও বিহার পুনঃতালিকা বিতর্ক—রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মোদী-শাহের হঠাৎ বৈঠকে জল্পনা তুঙ্গে।

নয়া দিল্লি | নিজস্ব প্রতিনিধি: একদিকে সংসদে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভ ও আলোচনা চাওয়ার দাবিতে কার্যত অচল অবস্থান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ—এই দুইয়ের মাঝখানে রবিবার আচমকা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিছু সময় পরই আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ উভয় সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করা হয়। বৈঠকগুলোর বিষয়ে অফিসিয়ালি কিছু না জানানো হলেও এই বৈঠকের সময় ও প্রেক্ষাপট দেখে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানাবিধ জল্পনা।

গত ২১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে সংসদের বর্ষা অধিবেশন। তবে অধিবেশন শুরুর পর থেকেই কার্যত কোনও বিধিবদ্ধ আলোচনা বা আইন পাশ হয়নি। বিরোধী দলগুলোর প্রধান অভিযোগ, বিহার রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে শুরু হওয়া “বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া” (Special Intensive Revision Exercise) নিয়ে কোনও আলোচনা করতে রাজি নয় সরকার পক্ষ।

বিরোধীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে এবং এটি একটি গণতান্ত্রিক বিপর্যয়। এই নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য বারবার দাবি তোলা হলেও, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ের গুরুত্ব অস্বীকার করছে বলেই বিরোধীদের অভিযোগ।

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন,
“এই ধরনের পুনর্বিবেচনা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বিপন্ন করে। সংসদে যদি এই নিয়ে আলোচনার সুযোগ না থাকে, তবে সেই সংসদ অকার্যকর।”

বর্ষা অধিবেশনে এখন পর্যন্ত একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল “অপারেশন সিন্দুর”—যেটি মূলত ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি গোপন তৎপরতা সংক্রান্ত বিষয়। তবে সেটি ছাড়া বাকি সময় প্রায় প্রতিদিনই লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধীদের স্লোগান, ওয়াকআউট এবং হট্টগোলের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

সরকার পক্ষের বক্তব্য, বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থে প্রতিটি ইস্যুকে জটিল করে তুলছে এবং সংসদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে।

এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারত। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা জানান। এর সঙ্গে একটি অজ্ঞাত “penalty” বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যা রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের চলমান প্রতিরক্ষা এবং বাণিজ্যিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।

বিশ্লেষকরা বলছেন,
“এই সিদ্ধান্ত ভারতের অর্থনীতির উপর চাপ বাড়াবে এবং আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা হলেও উত্তপ্ত হতে পারে। মোদী-শাহের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।”

রবিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বৈঠকে এক গম্ভীর পরিবেশ বিরাজ করছে।

তবে সরকার পক্ষ এই বৈঠককে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে দাবি করলেও সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটি মোটেই সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ নয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

যদিও বিহার বিধানসভা নির্বাচন এখনও কিছুটা দূরে, তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তারই অংশ হিসেবে বিহারে বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশেষভাবে সংখ্যালঘু ও দলিত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জাতীয় কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে সংসদে বলেন,
“ভোটার তালিকা সরকারের হাতিয়ার নয়, এটা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। এই ধরনের গোপন প্রক্রিয়া গণতন্ত্রকে খণ্ডিত করে।”

একদিকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ—এই দুই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠককে কেবল ‘রাজনৈতিক আলোচনা’ বলেই মনে করছেন না অনেকেই। বরং, এটি একটি সাংবিধানিক সংকেতও হতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষকের দাবি।

রাষ্ট্রপতি, যদিও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকেন, কিন্তু কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে সরকার প্রধানের আলোচনা জাতীয় নীতি নির্ধারণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিরোধী দলগুলোর প্রশ্ন, যদি এই বৈঠক কেবলমাত্র সৌজন্যমূলক হয়, তাহলে এক দিনে প্রধানমন্ত্রীর পর পরই কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করলেন? তাঁদের দাবি, সংসদে যেখানে কোনও আলোচনার জায়গা নেই, সেখানে গোপন বৈঠকে স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন,
“আমরা জানতে চাই, কি আলোচনা হচ্ছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে? সংসদের বাইরে নীতি নির্ধারণ কতটা গ্রহণযোগ্য?”

এই মুহূর্তে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিসর এক জটিল ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। একদিকে সংসদে কার্যত কাজ বন্ধ, অন্যদিকে আমেরিকার মতো শক্তিধর দেশ থেকে রপ্তানিতে বড় ধাক্কা—এই পরিস্থিতিতে শাসক দল এবং বিরোধীদের মধ্যে সমঝোতা কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক সংকটের সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা কিনা, নাকি আগত রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে স্পষ্ট একটাই, আগামী কিছু দিন ভারতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

  • Related Posts

    আইনের শাসন কি কেবলই ভাষণে? রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    আইনের শাসন কি কেবলই ভাষণে? রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    Read more

    Continue reading

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    ZEISS VISION CENTER আগরতলায় উদ্বোধন।

    ZEISS VISION CENTER আগরতলায় উদ্বোধন।

    আইনের শাসন কি কেবলই ভাষণে? রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    আইনের শাসন কি কেবলই ভাষণে? রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    দেশজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ৮ রাজ্যে IMD-এর অ্যালার্ট।

    দেশজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ৮ রাজ্যে IMD-এর অ্যালার্ট।

    Narendra Modi: বাংলা থেকে ভয় পালাবে, হিসাব হবে প্রতিটা পাপের!” তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি মোদির।

    Narendra Modi: বাংলা থেকে ভয় পালাবে, হিসাব হবে প্রতিটা পাপের!” তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি মোদির।

    AAP: বড়সড় রদবদল! রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে অপসারিত রাঘব চাড্ডা।

    AAP: বড়সড় রদবদল! রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে অপসারিত রাঘব চাড্ডা।

    প্রতিশ্রুতি নয়, কাজেই প্রমাণ: অসহায় পরিবারের পাশে IPFT প্রার্থী জিতিরাম ত্রিপুরা

    প্রতিশ্রুতি নয়, কাজেই প্রমাণ: অসহায় পরিবারের পাশে IPFT প্রার্থী জিতিরাম ত্রিপুরা