বই নয়, প্রাণ রক্ষা হল! লাইব্রেরিতে এক লক্ষ বইর মাঝে আগুন, প্রশাসনিক তৎপরতায় এড়ানো গেলো বিপর্যয়।
কৈলাসহর, ত্রিপুরা । ০৫ আগস্ট ২০২৫ঃ রাজ্যের প্রাচীনতম শিক্ষাঙ্গনগুলোর মধ্যে অন্যতম কৈলাসহর কলেজ। আর সেই কলেজের লাইব্রেরিতেই ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা মুহূর্তেই পরিণত হতে পারত মহাবিপর্যয়ে। বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারতো এক লক্ষেরও বেশি মূল্যবান বই, বহু বছরের জ্ঞানভাণ্ডার।
মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ করেই লাইব্রেরির বৈদ্যুতিক বোর্ডে ঘটে আগুন লাগার ঘটনা। সময় ছিল বিকেল তিনটা। ঠিক তখনই লাইব্রেরিয়ান ইন্দানী সাহা চিৎকার করে জানান আগুন লাগার খবর। খবর পেয়ে মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন অধ্যক্ষ ডঃ পিনাকী পাল। তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আগুনের মাঝে ঢুকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে পরিস্থিতির অবনতি রোধ করেন।
এরপর, কলেজের অন্যান্য কর্মীরা একযোগে জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। খবর যায় দমকল দপ্তরে, কৈলাসহরের দমকল বাহিনী, TSR এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হয়। তাঁদের উপস্থিতিতেই নিশ্চিত হয়, আগুন আর ছড়াবে না।
যদি কলেজে এই সময় ক্লাস না চলত কিংবা কেউ উপস্থিত না থাকত, তাহলে কেবল লাইব্রেরি নয়—পুরো কলেজ চত্বর, এমনকি আশপাশের আবাসিক এলাকাও পুড়ে ছাই হয়ে যেত। বইয়ের আলমারির পাশে যে দালানঘরগুলো রয়েছে, সেগুলো একে একে আগুনে ভস্মীভূত হত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীরা।
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে কলেজ ভবনের ইলেকট্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া বৈদ্যুতিক লাইন, পুরোনো বোর্ড ও লুজ তার—এই কারণেই কি এমন শট সার্কিটের ঘটনা ঘটেছে? তদন্ত শুরু করেছে কৈলাসহর থানা পুলিশ।
তবে তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে অধ্যক্ষ ও কলেজ কর্মীরা নিশ্চিতভাবে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করলেন প্রতিষ্ঠানকে।








