নিজ বাড়ির পুকুরে স্নান করতে গিয়ে করুণ মৃত্যু এক গৃহবধূর, এলাকায় শোকের ছায়া।
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা । রিপোর্টঃ মৃণ্ময় রায়ঃ জীবন কতটা অনিশ্চিত — তারই নির্মম প্রতিচ্ছবি দেখা গেল তেলিয়ামুড়া থানাধীন করইলং এলাকায়। নিজ বাড়ির পুকুরে স্নান করতে নেমে প্রাণ হারালেন এক মধ্যবয়স্কা গৃহবধূ। মৃতার নাম অপর্ণা মজুমদার, বয়স ৪৫ বছর। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকা শোকস্তব্ধ।
প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাড়ির ভেতরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ওই সময় স্বামী স্বপন মজুমদার স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আচমকাই তার চোখে পড়ে, বাড়ির পেছনের পুকুরে তার স্ত্রী অচেতন অবস্থায় পানিতে ভেসে রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।
তড়িঘড়ি করে খবর দেওয়া হয় তেলিয়ামুড়া অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের কর্মীদের। তারা ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে দ্রুত তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অপর্ণা দেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে স্ত্রীকে মৃত অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বপন মজুমদার সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। প্রতিবেশীদের চোখেও জল, কারণ অপর্ণা মজুমদার ছিলেন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের এবং সকলের প্রিয় মুখ।
এখনও পর্যন্ত তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অনুমান করা হচ্ছে, স্নান করতে গিয়ে হয়তো আচমকা মাথা ঘুরে বা পা পিছলে পড়ে যান তিনি এবং পানিতে ডুবে যান। পুলিশ ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই প্রাথমিকভাবে গণ্য করছে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ প্রশাসন।
ঘটনার জেরে করইলং এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। সকালেও উনি স্বাভাবিক ছিলেন, অথচ দুপুর গড়াতে না গড়াতেই সব শেষ।”
গোটা ঘটনাটি নিয়ে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।








