রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ে নিরাপত্তাহীনতা ও শৃঙ্খলার অভাবের অভিযোগ, কলেজ চত্বরে ছাত্রদের ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে পরিস্থিতি।
কৈলাসহর প্রতিনিধি । ২৮ জুলাই ২০২৫ঃ কৈলাসহরের রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ে সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। কলেজে নির্ধারিত পোশাক না পরে আসায় এক ছাত্রকে কলেজ থেকে বেরিয়ে যেতে বলাকে কেন্দ্র করে হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা কলেজ চত্বর। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, কলেজ কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও ট্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) বাহিনী ডেকে আনতে হয়। ঘটনার পর থেকে কলেজ চত্বরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্র সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে কলেজের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র আশরাফুল ইসলাম নির্ধারিত কলেজ ইউনিফর্ম না পরে কলেজে উপস্থিত হন। বিষয়টি নজরে আসতেই কলেজের সিনিয়র ছাত্ররা তাঁকে শালীনভাবে অনুরোধ করেন, ভবিষ্যতে কলেজের ড্রেস কোড মেনে কলেজে আসার জন্য। এমনকি তাঁকে কলেজ চত্বর ত্যাগ করার জন্যও বলা হয়, যেহেতু ছাত্রদের মধ্যে আগেই এ নিয়ে একাধিক আলোচনা হয়েছে।
এখানেই থেমে থাকেনি আশরাফুল। অভিযোগ, কলেজ গেট থেকে বের হয়ে সে কিছু বহিরাগত যুবকদের ডেকে আনে এবং কলেজ চত্বরে নিয়ে আসে। বহিরাগতদের কলেজে প্রবেশ করতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে যখন কলেজের সিনিয়র ছাত্ররা গেট বন্ধ করে দিলে বহিরাগত যুবকদের সঙ্গে তাঁদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
কলেজ চত্বরের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই কৈলাসহর থানার একাধিক পুলিশকর্মী এবং টিএসআর বাহিনীর একটি টিম তৎক্ষণাৎ কলেজে পৌঁছে যায়। তাঁদের উপস্থিতিতে বহিরাগতরা কলেজ ত্যাগ করে এবং পরিস্থিতি আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই ঘটনার পর ছাত্রছাত্রীদের একাংশ স্পষ্টভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কলেজের অভ্যন্তরে বারংবার বহিরাগত যুবকদের অবাধ প্রবেশ, কলেজের নির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং নিরাপত্তার ঘাটতি—সব মিলিয়ে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
অনেক দিন ধরেই কলেজের ছাত্রছাত্রীরা লিখিত ও মৌখিকভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন, যাতে কলেজ চলাকালীন সময়ে ড্রেস কোড বাধ্যতামূলক করা হয় এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে তাঁদের সেই দাবিগুলো কলেজ কর্তৃপক্ষ উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পর কলেজের এবিভিপি (ABVP) ইউনিট এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে ফের লিখিতভাবে জানিয়ে দেয় যে,
১. কলেজ চলাকালীন সময়ে ড্রেস কোড বাধ্যতামূলক করা হোক।
২. বহিরাগতদের কলেজে প্রবেশ রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৩. কলেজ চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।
তবে ঘটনার দিনে কলেজের অধ্যক্ষ ছুটিতে থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কলেজের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি ড্রেস কোড নিয়ে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি কলেজ চত্বরে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।








