অর্থ বরাদ্দের বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস, দপ্তরগুলিকে দিলেন নির্দিষ্ট দায়িত্ব।
ফটিকরায়, মঙ্গলবার: ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের জনগণের দীর্ঘদিনের মৌলিক সমস্যা নিরসনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আজ মঙ্গলবার ফটিকরায় আম্বেদকর কলেজের কনফারেন্স হলে এক পর্যালোচনা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এই বৈঠকে পৌরহিত্যে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী এবং ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুধাংশু দাস।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, পূর্ত, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য নিধি দপ্তরের জেলা এবং মহাকুমা স্তরের শীর্ষ আধিকারিকবৃন্দ। একইসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফটিকরায়ের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানগণ, যাঁরা সরাসরি জনগণের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার সঙ্গে জড়িত।
পর্যালোচনা বৈঠকে মন্ত্রী সুধাংশু দাস স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হল – ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রাস্তাঘাটের অবস্থা, পানীয় জলের ঘাটতি, বিদ্যুৎ পরিষেবার ত্রুটি এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার স্বচ্ছতা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে বিশদ আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানসূত্র খোঁজা এবং দপ্তরগুলিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া।
মন্ত্রী আরও জানান, গত অর্থবর্ষ (২০২৪-২৫) এর বাজেট বরাদ্দের মধ্যে কোন দপ্তর কতটা কাজ সম্পন্ন করেছে এবং কতটা বাকি রয়েছে, তারও খতিয়ান তোলা হয়েছে এই বৈঠকে। সেইসঙ্গে চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ অর্থের দ্রুততম বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১০০ শতাংশ বাজেট বাস্তবায়নই এই সরকারের লক্ষ্য, এমনটাও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহার নেতৃত্বে বর্তমান রাজ্য সরকার উন্নয়নমুখী ভাবনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। প্রতিটি এলাকায় যেমনভাবে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তেমনি তার সঠিক এবং স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।”
বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানরা সরাসরি তাদের নিজ নিজ এলাকার জনগণের সমস্যাগুলির কথা উত্থাপন করেন। বিশেষ করে —
? অনেক এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানীয় জলের সঙ্কট
? পুরাতন বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট
? দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া কাঁচা ও রাস্তাঘাটের বেহাল দশা
এই বিষয়ে প্রতিটি দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস।
তিনি বলেন, “আমি চাই না ফটিকরায়ের মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকুক। তাই প্রশাসন ও দপ্তরগুলিকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। উন্নয়নের যে গতি শুরু হয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই থেমে না যায়।”
পর্যালোচনা বৈঠকের শেষে মন্ত্রী সুধাংশু দাস সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন, যাতে দ্রুত ফলো-আপ বৈঠক অনুষ্ঠিত করে জনসাধারণকে বাস্তব ফলাফল জানানো যায়।
এই বৈঠকের মাধ্যমে ফটিকরায় এলাকার নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার ও মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণে প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হলো বলে মনে করছেন সচেতন মহল।








