“ভরসা করেন না দোকানিরা!” — মাসের পর মাস মজুরি না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন রেগা শ্রমিকদের।
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা । ২৮ জুলাই ২০২৫ঃ মাসের পর মাস পরিশ্রম করেও প্রাপ্য মজুরি না পাওয়ায় আজ তেলিয়ামুড়া আর ডি ব্লকের অন্তর্গত হাওয়াই বাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন একাধিক রেগা শ্রমিক।
৬ থেকে ৭ মাস আগে কাজ সম্পন্ন হলেও এখনও পর্যন্ত কেউই তাদের পারিশ্রমিক পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন শ্রমিকরা।

পরিস্থিতি এতটাই সঙ্কটজনক যে, স্থানীয় দোকানিরাও এখন আর রেগা শ্রমিকদের বাকিতে সামান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দিতেও রাজি নন। এই প্রসঙ্গে এক শ্রমিক বলেন,
“ভাত খাবো কীভাবে? দোকানে গেলে বলে আগে টাকা দাও! আমরা তো মজুরি পাই না, দেব কোথা থেকে?”
এই মানবেতর পরিস্থিতির প্রতিবাদেই আজ সকালে সংগঠিতভাবে ধরনা কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। গ্রাম পঞ্চায়েতের গেটে দাঁড়িয়ে স্লোগানে মুখর করে তোলেন তাঁরা।
এই খবর পৌঁছতেই তেলিয়ামুড়া আর ডি ব্লকের বিডিও বিপ্লব আচার্য্য নিজে ছুটে যান হাওয়াই বাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসেন তিনি।
বিডিও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন:
“মজুরি প্রদানে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি আমরা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বকেয়া মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে শ্রমিকদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবারই প্রশাসন আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে, কিন্তু বাস্তবে মজুরি পাওয়া তো দূরের কথা, কাজের ন্যূনতম মূল্যায়নও হচ্ছে না।
এক বিক্ষুব্ধ শ্রমিকের কথায়:
“ছয় মাস আগে মাটি কেটেছি, পিচ ঢেলেছি, ড্রেন সাফ করেছি—কিন্তু টাকা পাইনি। এখন দোকানে ভরসা করে বাকিও দিতে চায় না। আমাদের পরিবারের সদস্যরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে।”
এদিকে এই ধরনা কর্মসূচির মধ্যে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে — কিছু শ্রমিক দাবি করছেন, তাঁদের গোপনে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে,
“মজুরি আদৌই দেওয়া হবে না, শুধু আশ্বাসেই চলবে।”
এই অভিযোগ ঘিরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মতে, শ্রমিকদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার জন্য কোনো প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাজ করছে। যদিও অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসন নিশ্চিত করেনি।
এদিকে এলাকা জুড়ে ক্রমশ বাড়ছে চাপ। অনেকেই বলছেন, যদি দ্রুত মজুরি পরিশোধ না হয়, তাহলে আগামীতে আরও বড়সড় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন শ্রমিকরা।
? সর্বসম্মত দাবি:
শ্রমিকদের সঙ্গে প্রশাসনের প্রতারণামূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে
বকেয়া মজুরি অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে
দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে








