ত্রিপুরা তৃণমূল যুবনেতা শান্তনু সাহার অভিযোগ — ‘ত্রিপল ইঞ্জিন সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ’।
আগরতলা, ২৮ জুলাই: আগরতলা শহরের সাধারণ নাগরিকদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা এখন চরম দুর্ভোগে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তাঘাটের ভাঙাচোরা অবস্থা, পানীয় জলের তীব্র সংকট এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থা এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। আর এই সব নাগরিক সমস্যার বিরুদ্ধে এবার তীব্র প্রতিবাদে নামল ত্রিপুরা রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস।
আজ সকালে আগরতলা পৌর নিগম ভবনের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে শহরবাসীর ভোগান্তির ছবি সামনে আনেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, পৌর নিগমের আওতাধীন এলাকাগুলোর পরিকাঠামো আজ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। সরকার এবং পৌর নিগমের দায়িত্বপ্রাপ্তদের একাধিকবার অবহিত করা হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা শান্তনু সাহা সরাসরি অভিযোগ করেন, “ত্রিপল ইঞ্জিন সরকার শুধু উন্নয়নের কথা বলেই নিজেদের দায় শেষ করছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো—আগরতলা শহরের রাস্তাঘাট ভেঙে পড়েছে, বহু এলাকায় পানীয় জলের ন্যূনতম পরিষেবাও নেই, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এতটাই খারাপ যে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের রাস্তাগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এটা একটা ব্যর্থ পৌর নিগম ও অসংবেদনশীল সরকারের প্রমাণ।”
তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে, শুধুমাত্র অদক্ষতা নয়, বরং পৌর পরিষেবার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি তহবিল ব্যবহার না করে ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজের নামে প্রহসন চলছে বলে দলটির দাবি। শান্তনু সাহা আরও বলেন, “জনগণের করের টাকায় যারা ভোগবিলাস করছেন, তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে।”

এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। তাদের হাতে ছিল পোস্টার, ব্যানার, যেখানে লেখা ছিল— “আমরা উন্নয়ন চাই, দুর্নীতি নয়”, “পানীয় জল কোথায়?”, “ড্রেন নেই, উন্নয়ন নেই”, “ভাঙা রাস্তা = ব্যর্থ নিগম” ইত্যাদি স্লোগান। তারা বলেন, সরকার যতই উন্নয়নের প্রচার করুক না কেন, মাঠে-ময়দানে বাস্তবের ছবি একেবারেই আলাদা।
তৃণমূল কংগ্রেস হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, আগামী দিনে যদি অবিলম্বে নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়ন না হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে এবং রাজ্যের প্রতিটি ওয়ার্ডে এই বিষয়ে প্রচার চালানো হবে। বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও দলটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—সরকার ও নিগমকে আর দায় এড়িয়ে চলতে দেওয়া হবে না।








