দরিদ্রতা হার মানল মেধার কাছে — রেশমীর গল্প ছুঁয়ে গেল হাজারো মন।
বামুটিয়া, ত্রিপুরা । ১৯ জুলাই ২০২৫ঃ অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়কে সঙ্গী করে গান্ধীগ্রাম উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী রেশমী রায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের অষ্টম স্থান অধিকার করেছেন। রেশমী বামুটিয়ার তেবাড়িয়া গ্রামের একজন দিনমজুরের ঘরের মেয়ে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও তিনি তার মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সমাজে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রেশমীর এই অসাধারণ সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, আনন্দে উদ্বেলিত গোটা বিদ্যালয় পরিবার। রেশমীর এই সাফল্য উদযাপন করতে গিয়ে গান্ধীগ্রাম উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রতন ভৌমিক একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি তাঁর নিজ পকেট থেকে রেশমীকে এক লক্ষ টাকার একটি চেক তুলে দেন।
শিক্ষক রতন ভৌমিক সাংবাদিকদের জানান,

“এই টাকা রেশমীর জীবনে বড় কিছু পরিবর্তন আনবে না, কিন্তু হয়তো ওর চলার পথে কিছুটা সহযোগিতা হবে। আমি চাই, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষজন যেন এ দৃশ্য দেখে উদ্বুদ্ধ হন এবং দরিদ্র মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ান।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা সুনীতি হালদার, বর্তমান প্রধান শিক্ষক রুপন রায়, শিক্ষক অসীম বিশ্বাস এবং বামুটিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস।
প্রাক্তন বিধায়ক জানান,
“আমি রেশমীর সাফল্যে গর্বিত। ওর ভবিষ্যতের জন্য রইল অনেক শুভকামনা।”
রেশমী রায়, THE NEWS 9-এর একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন,
“আমি খুব খুশি। রতন স্যারের এই ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আমি বড় হয়ে নিজে দাঁড়াব, এবং তখন আমি অন্য গরীব ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।”
এই মেধাবী ছাত্রী প্রমাণ করে দিলেন, আর্থিক সংকট কোনো বাধা হতে পারে না যদি থাকে সংকল্প, পরিশ্রম এবং উপযুক্ত সহায়তা। গান্ধীগ্রাম উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গর্ব রেশমী রায় হয়ে উঠেছেন অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রেরণা।








