ঠিকাদারি বাণিজ্য ঘিরে চরম উত্তেজনা! মাহি কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার আব্দুল মান্নানের গাড়িতে গভীর রাতে আগুন, ক্ষোভে ফুঁসছেন ঠিকাদার।
কৈলাসহর, ত্রিপুরা। ১২ জুলাই ২০২৫ঃ ঠিকাদারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কৈলাসহর শহর। মাহি কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার ও বিশিষ্ট ঠিকাদার আব্দুল মান্নানের একটি গাড়িতে শনিবার গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গৌরনগর কমিউনিটি হলঘরের পাশে, যেখানে ওই গাড়িটি তাঁর কর্মীদের দ্বারা পার্ক করে রাখা হয়েছিল।
রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে এসে নিজেই গাড়ির পুড়ে যাওয়া করুণ চিত্র দেখে চমকে যান আব্দুল মান্নান। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে এবং এর পেছনে রয়েছে তাঁর ঠিকাদারি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত এক শ্রেণির প্রতিদ্বন্দ্বী।
তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও পাইতুরবাজার এলাকায় তাঁর একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার পরেও সঠিক বিচার পাননি তিনি। একাধিকবার এই ধরনের হামলা হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আব্দুল মান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত বড় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটার পর আমি কৈলাসহর থানায় অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। এটা খুবই দুঃখজনক।” তিনি প্রশাসনের দিক থেকেও বিচারহীনতার অভিযোগ তুলে বলেন, বারবার এইভাবে তার গাড়িগুলিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অথচ কোনো দোষীকে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।
জানা গেছে, গাড়িটিতে আগুন লাগার ফলে প্রচুর আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাড়িটি মাহি কনস্ট্রাকশনের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ছিল এবং সেটির মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও নথিপত্রও ছিল বলে জানা যায়। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে তারা আগুন লাগার শব্দ শুনলেও প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে তারা বাইরে এসে আগুনে জ্বলতে থাকা গাড়িটি দেখতে পান। তবে তখনও দুষ্কৃতীরা এলাকা ত্যাগ করে ফেলেছিল।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় জনগণও। তাঁদের অভিযোগ, বারবার এমন ঘটনা ঘটার পরেও দোষীদের গ্রেপ্তার না করতে পারা পুলিশের ব্যর্থতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে প্রশাসনিক দুর্বলতা।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঠিকাদার আব্দুল মান্নান প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি আইনি পথে হাঁটবেন এবং রাজ্যের উচ্চতর প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন।
এই ঘটনার পর ঠিকাদারি মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অন্যান্য ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।








