চিকিৎসকদের বিক্ষোভে জেগে উঠলো প্রশাসন: ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের পাশে অবৈধ বিটুমিনাস প্ল্যান্ট অবশেষে বন্ধ।
কৈলাসহর, ত্রিপুরা। ১২ জুলাই ২০২৫ঃ দীর্ঘ এক বছরের চরম ভোগান্তির পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও এলাকাবাসীরা। চিকিৎসকদের সাংবাদিক সম্মেলনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অবৈধভাবে জেলা হাসপাতালের পাশে গড়ে ওঠা বিটুমিনাস প্ল্যান্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিল প্রশাসন।
বিগত দেড় বছর ধরে কৈলাসহরের ভগবান নগর এলাকায় অবস্থিত ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের সন্নিকটে ঠিকাদার আব্দুল মান্নান কর্তৃক গড়ে তোলা এই বিটুমিনাস প্ল্যান্টটি হাসপাতাল চত্বর এবং সংশ্লিষ্ট আবাসিক কোয়ার্টারে অবস্থানরত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের কাছে এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল।
প্রচণ্ড ধোঁয়া, রাসায়নিক গন্ধ ও বায়ুদূষণের কারণে হাসপাতালের পরিবেশে সৃষ্টি হয় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি। অসুস্থ রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। শুধু রোগীরা নয়, হাসপাতালে বসবাসরত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং তাঁদের পরিবাররাও শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, মাথাব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত সহ একাধিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করেও যখন স্থানীয় প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছিল না, তখন জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা গত ১১ জুলাই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবাদে মুখর হন। এতে যোগ দেন এলাকার সাধারণ মানুষরাও, যারা বিটুমিনাস প্ল্যান্টের বিরূপ প্রভাবের শিকার হচ্ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে বহুবার স্থানীয় মহকুমাশাসক, জেলাশাসক সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। এমনকি রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পক্ষ থেকে চলতি মাসের ১ জুলাই একটি লিখিত আদেশে বিটুমিনাস প্ল্যান্ট বন্ধ করার নির্দেশ জারি হলেও মালিক পক্ষ সেই নির্দেশকে উপেক্ষা করে জোরপূর্বক কাজ চালিয়ে যেতে থাকে।
চিকিৎসকদের সম্মেলন ও প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে ১২ জুলাই দুপুরে মাঠে নামে প্রশাসন। কৈলাসহরের মহকুমাশাসক বিপুল দাস, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কর্মকার, রাজ্য পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের আধিকারিক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, টিএসআর এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর আইনানুগভাবে বিটুমিনাস প্ল্যান্টটি তালাবন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
মহকুমাশাসক বিপুল দাস স্পষ্ট করে জানান, আব্দুল মান্নান সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এই বিটুমিনাস প্ল্যান্টটি গড়ে তুলেছিলেন, এবং বহুবার প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি তা চালু রেখেছিলেন। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং এলাকার মানুষের যৌক্তিক দাবির ভিত্তিতেই এটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপে খুশি চিকিৎসক সমাজ ও এলাকাবাসীরা। তাঁরা প্রশাসনের এই দেরিতে হলেও কার্যকর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। একইসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রশাসন আরও সচেতন হয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে—যদি চিকিৎসক ও জনগণের এই সম্মিলিত কণ্ঠে প্রশাসন সাড়া দিতে পারে, তবে কেন প্রথম থেকেই এই অনিয়ম রুখে দেওয়া যায়নি? তবুও, দেরিতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্তে ফিরে আসার জন্য প্রশাসন ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।








