চিকিৎসক হলেও হৃদয়ে সমাজসেবী! পিতার মৃত্যুবার্ষিকীতে মানবিক উদ্যোগে শিশুদের পাশে ডা. সুশান্ত বনিক।
উদয়পুর, ত্রিপুরা। ১২ জুলাই ২০২৫: মানুষের জীবনে পিতা-মাতার অবদান চিরস্মরণীয়। অনেকেই সেই স্মৃতিকে ঘিরে নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন, কিন্তু কেউ কেউ থাকেন যাঁরা শোককে রূপ দেন সেবার আনন্দে। ঠিক তেমনই এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ডা. সুশান্ত বনিক। পিতার মৃত্যুবার্ষিকিতে তিনি শুধু স্মরণে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজসেবার এক গর্বিত উদাহরণ সৃষ্টি করলেন।
ডা. সুশান্ত বনিক ছেলেবেলায় তাঁর বাবাকে হারান। সেই ছোট বয়স থেকেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে, নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে আজ তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন চিকিৎসক হিসেবে। বর্তমানে তিনি কর্মরত রয়েছেন চেন্নাইয়ের এক সুনামধন্য হাসপাতালে, যেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে কর্মরত থাকলেও তাঁর মন পড়ে থাকে নিজের জন্মভূমি ত্রিপুরাতেই।
ত্রিপুরার মানুষ যখন চিকিৎসার প্রয়োজনে চেন্নাই যান, তখন তাদের পাশে স্বেচ্ছায় দাঁড়ান এই মানবিক ডাক্তার। শুধু চিকিৎসা-সহযোগিতা নয়, নিজের কর্মব্যস্ত জীবন থেকে সময় বের করে তিনি নানা সমাজসেবামূলক কাজেও যুক্ত থাকেন, যা আজকের দিনে সত্যিই বিরল।
এই বছর তাঁর পিতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি নিজে চেন্নাই থেকে ত্রিপুরায় ফিরে আসেন এবং নিজের গ্রামের পাশের উদয়পুরের খিলপাড়া বালক শিশু নিকেতনে একগুচ্ছ সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। শনিবার দিনভর তিনি ওই শিশুগৃহের ছোট ছোট শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান, তাঁদের হাতে তুলে দেন পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী এবং আরও অনেক উপহারসামগ্রী। শিশুরাও আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে তাঁর উপস্থিতিতে।
ডা. সুশান্ত বনিক বলেন, “এই সমাজের মধ্যেই আমি বড় হয়েছি, তাই আমার দায়িত্ব এই সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া। বাবার মৃত্যুবার্ষিকির দিনে তাঁদের স্মরণ করা সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”
স্থানীয় মানুষ ও শিশুকল্যাণকেন্দ্রের কর্মীরা ডা. বনিকের এমন উদার ও মানবিক কাজের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁকে একজন ‘আদর্শ সমাজসেবী চিকিৎসক’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ডা. সুশান্ত বনিকের মতো মানুষদের কারণেই সমাজে এখনও আশার আলো জ্বলছে। তাঁর এই প্রয়াস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সফলতা তখনই অর্থপূর্ণ, যখন তা সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।








