খোয়াই শহরতলীতে মাদক চক্রের ঘাঁটি! প্রদীপ সিংহের বাড়িতে ড্রাগস আসর, বিপুল মাদক উদ্ধার ও তিনজন আটক।
খোয়াই, ত্রিপুরা। ১২ জুলাই ২০২৫ঃ খোয়াই শহরতলী এলাকার শান্ত পরিবেশে আজ ছড়িয়ে পড়ল এক ভয়ঙ্কর চিত্র—ড্রাগস সংস্কৃতি এখন শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে শহরতলী এলাকাতেও গেঁড়ে বসেছে তার বিষাক্ত শিকড়। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের লড়াই যেখানে অব্যাহত, ঠিক সেখানেই শহরতলীর বসতবাড়িতে বসছে ড্রাগস সেবনের আসর! আজ সন্ধ্যায় পুলিশের তৎপরতায় এমনই একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে।
গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে খোয়াই থানার পুলিশ আজ সন্ধ্যায় অভিযান চালায় খোয়াই শহরতলীর পরিচিত এক ব্যক্তি, প্রদীপ সিংহের বাড়িতে। অভিযানে প্রদীপ সিংহের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণে অবৈধ ড্রাগস ও সেবনের উপকরণ উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনজন সন্দেহভাজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে অভিযানের সবচেয়ে চমকপ্রদ ও হতবাক করা দিক ছিল জন্মদিন উদযাপন ঘিরে মাদক সেবনের দৃশ্য। পুলিশ জানায়, ড্রাগস সেবনকারী অতুল দেববর্মা আজ তার জন্মদিন উপলক্ষে কেক হাতে নিয়ে প্রদীপ সিংহের বাড়িতে উপস্থিত হন—তবে সেই জন্মদিনের আসর কেক কাটা নয়, বরং ড্রাগস সেবনের আয়োজনেই পরিণত হয়েছিল।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে অভিযানের সময় প্রদীপ সিংহ এবং তার ২০ বছরের ছেলে প্রতাপ সিংহ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রদীপ কেবল নিজে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন, বরং নিজের ছেলেকেও এই কাজে যুক্ত করেছেন। তার স্ত্রী অঞ্জনা দাসও সক্রিয়ভাবে এই চক্রে সাহায্য করে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার খবর জানতে পেরে স্তম্ভিত। তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাড়িতে সন্ধ্যার পর নানা সন্দেহজনক কার্যকলাপ চলতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এত বড় চক্র যে গড়ে উঠেছে, তা কেউ ভাবতেও পারেননি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রদীপ সিংহ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ওই বাড়ি সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং এলাকার অন্যান্য সন্দেহভাজন জায়গাগুলিকেও নজরে রাখা হচ্ছে।
এ ঘটনার পর খোয়াই শহরতলীতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন—এই ধরনের অপরাধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যেতে হবে।
শহরের গণ্ডি পেরিয়ে মাদকের এই ছায়া এখন শহরতলী পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় উদ্বেগে প্রশাসনও। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, পুরো মাদক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযান শিগগিরই শুরু হবে এবং মূলচক্রকে আইনের আওতায় আনতেই হবে।








