চার বছরের খুশীর মর্মান্তিক মৃত্যু: কৈলাসহরে একই পরিবারে দ্বিতীয়বার শিশুর মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বাঁধছে।
কৈলাসহর, ত্রিপুরা। ১২ জুলাই ২০২৫ঃ কৈলাসহরের ভগবান নগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘটল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। পুকুরে ডুবে প্রাণ হারাল মাত্র চার বছরের এক শিশুকন্যা — যার নাম খুশী বেগম। এই মর্মান্তিক ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। শিশুটির মৃত্যু ঘিরে একদিকে যখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামজুড়ে, ঠিক তখনই আরেকদিকে মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও রহস্য।
ঘটনার সূত্রপাত আজ দুপুরে। জানা গেছে, কৈলাসহরের ভগবান নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা এবং পেশায় গাড়ি চালক জাকির হোসেন প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে বের হয়ে যান। তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে ছিলেন স্ত্রী এবং মা। কিন্তু দুপুর নাগাদ হঠাৎই জাকিরের স্ত্রী তাকে ফোন করে জানান, চার বছরের খুশীকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
খবর পাওয়া মাত্রই জাকির হোসেন ও তার ভাই দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন এবং চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বহু খোঁজাখুঁজির পর যখন খুশীর কোনো সন্ধান মেলেনি, তখন তারা বাড়ির পাশের পুকুরে খোঁজ শুরু করেন। অবশেষে পুকুরের জলের নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে তড়িঘড়ি করে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মৃত শিশুকন্যার নাম খুশী বেগম এবং তিনি অত্যন্ত আদরের সন্তান ছিলেন। কিন্তু এখানেই শেষ নয়—ঘটনার গভীরে আছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জাকির জানান, আজ থেকে প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে তার আরেক তিন বছরের কন্যা একইভাবে ওই একই পুকুরে ডুবে মৃত্যুবরণ করেছিল। এই ঘটনায় তখনও শোকের ছায়া নেমে এসেছিল পরিবারে ও গ্রামে।
এই দুটি মৃত্যুর পেছনে কিছু অস্বাভাবিক মিল রয়েছে, যা তদন্তকারীদের সন্দেহের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, জাকির হোসেন তিনটি বিবাহ করেছেন। এবং বর্তমানে যিনি তার সঙ্গে বসবাস করছেন, তিনি খুশী বেগমের জন্মদাত্রী মা নন। একইভাবে, যে শিশুটি কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছিল, সেও বর্তমান স্ত্রীর সন্তান ছিল না। এই তথ্য সামনে আসতেই দুই শিশুকন্যার মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে — নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে?
খুশী বেগমের মৃত্যুতে গোটা গ্রাম শোকে স্তব্ধ। জানা গেছে, শিশুটি এলাকার সকলের কাছেই ছিল প্রিয় ও আদরের। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মহিলা ও প্রতিবেশী হাসপাতালে ছুটে আসেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কৈলাসহর থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। মৃতদেহটি পরিবারের সদস্যরা নিতে চাইলেও, ময়নাতদন্ত না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ দেহ হস্তান্তরে রাজি হয়নি। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ময়নাতদন্ত একান্ত প্রয়োজন।
বর্তমানে কৈলাসহর থানার পুলিশ মৃত্যুর পেছনের কারণ জানতে গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে পরিবারের সদস্যদের, এবং খতিয়ে দেখা হচ্ছে পূর্ববর্তী মৃত্যুর ঘটনাটিকেও।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, এটি যদি নিছক দুর্ঘটনা হয়ে থাকে, তবে কেন বারবার একই পুকুরে ছোট ছোট শিশুর মৃত্যু ঘটছে? আবার অনেকেই বলছেন, এটি নিছকই দুঃখজনক একটি দুর্ঘটনা। তবে তদন্তের পরই সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
এই মুহূর্তে গোটা কৈলাসহর এলাকা জুড়ে চলছে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে কোনো ফাঁকি রাখা হবে না।








