কৃষ্ণপুর, ত্রিপুরা। ১০ জুলাই ২০২৫ঃ ত্রিপুরা রাজ্যে গর্ভবতী মা ও শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য এবং সার্বিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহু প্রতিশ্রুতিশীল প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে। এই প্রকল্পগুলির সফল রূপায়নে মূল ভরসা হয়ে উঠেছে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি।
কিন্তু এসব উদ্যোগের পেছনে যখন কিছু কেন্দ্রেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তখন সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্নচিহ্ন উঠে আসে। সম্প্রতি এমনই এক উদ্বেগজনক ছবি ধরা পড়ল ত্রিপুরার ২৯ নম্বর কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চাকমাঘাট এলাকার ‘তুই মধু’ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে।
ঘটনার সূত্রপাত, রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মাননীয় মন্ত্রী তথা কৃষ্ণপুর কেন্দ্রের বিধায়ক বিকাশ দেববর্মার আকস্মিক কেন্দ্রমুখী পরিদর্শনের সময়। পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নিজের চোখেই দেখতে পান চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও গাফিলতির চিত্র।
বলা চলে, শিশু ও মাতৃসেবার নামে রীতিমতো চালানো হচ্ছিল কাগজে-কলমে জালিয়াতির কারবার। জানা গেছে, পরপর দুই দিন শিশুদের কেন্দ্রে অনুপস্থিত থাকার পরও, স্টক রেজিস্টারে ভুলভালভাবে উপস্থিত দেখিয়ে খাবার বিতরণ দেখানো হয়েছে। খাবার বিতরণের সেই হিসেব পুষ্টি সংক্রান্ত প্রকল্পের আওতায় সরকারি বরাদ্দের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল।
মন্ত্রী নিজেই বলেন— “এটি শুধু গাফিলতি নয়, এটা সরকারের পুষ্টি প্রকল্পের ওপর সরাসরি আঘাত। শিশুদের প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছেলেখেলা করার অধিকার কারো নেই। এই দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।”
তিনি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী পুণ্য লক্ষী কপালির বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই তিনি একাধিকবার অঙ্গনওয়াড়ি সুপারভাইজারকে ফোন করলেও, ফোন রিসিভ না হওয়ায় তাঁর মধ্যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুধু প্রশাসনিক স্তরেই নয়, স্থানীয় স্তরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বহু বছর ধরেই এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে আসছিলেন যে নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুপুষ্টি এবং পরিচর্যার ক্ষেত্রে মারাত্মক গাফিলতি হচ্ছে। মন্ত্রীর এই হঠাৎ পরিদর্শনে সেই অভিযোগের যথার্থতা আবারও প্রতিষ্ঠিত হলো।
স্থানীয় বাসিন্দারা মন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন— “এ ধরনের পরিদর্শন আরও বেশি হওয়া দরকার। কিছু কর্মীর জন্য গোটা ব্যবস্থাটির বদনাম হোক, সেটা আমরা চাই না।”
মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা এইদিন আরও কয়েকটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি প্রত্যেক কেন্দ্রে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেন, যাতে তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন। তিনি বলেন, “শিশুদের মানসিক, শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির ভূমিকা অপরিসীম। এখান থেকে তৈরি হয় ভবিষ্যতের নাগরিক, ভবিষ্যতের সমাজ। তাই কোনো ধরনের অব্যবস্থা, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতিকে এক মুহূর্তের জন্যও বরদাস্ত করা হবে না।”
মন্ত্রী আরও বলেন— “প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বজায় রাখাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মা ও শিশুদের কল্যাণে বরাদ্দ অর্থ যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছেই পৌঁছায়, সে বিষয়েও সরকারের দৃষ্টি থাকবে সর্বক্ষণ।”








