লেম্বুছড়া ফিসারি কলেজে পালিত হলো ২৫তম জাতীয় মৎস্য চাষি দিবস, অংশগ্রহণ করলেন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস সহ বিশিষ্টরা।
বামুটিয়া। ১০ জুলাই ২০২৫ঃ আজ লেম্বুছড়া স্থিত ত্রিপুরা ফিশারি কলেজে অত্যন্ত গৌরব এবং গুরুত্বের সাথে পালিত হলো ২৫তম জাতীয় মৎস্য চাষি দিবস। এই দিনটি দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে অবদান রাখা লক্ষ লক্ষ মৎস্যচাষিদের সম্মান জানানোর দিন হিসেবে প্রতি বছর পালিত হয়। সেই লক্ষ্যেই, ত্রিপুরা সরকারের মৎস্য দপ্তর ও ফিশারি কলেজ যৌথভাবে আয়োজন করে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের।
অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় কলেজের অডিটোরিয়াম চত্বরে, যেখানে সকাল থেকেই শুরু হয় অনুষ্ঠানসূচি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের মাননীয় মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস।
সাথে ছিলেন মৎস্য দপ্তরের অধিকর্তা সন্তোষ দাস, ত্রিপুরা ফিসারি কলেজের প্রিন্সিপাল অরুণ ভাই পাটেল, ফ্যাকাল্টি মেম্বার, গবেষক, ছাত্রছাত্রী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস এদিন তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“ত্রিপুরা একটি জলসম্পদ সমৃদ্ধ রাজ্য। মৎস্য খাতে উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। জাতীয় মৎস্য দিবস সেই সব পরিশ্রমী চাষিদের সম্মান জানানোর দিন, যাঁরা জলজ সম্পদ ব্যবহার করে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে চলেছেন।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মৎস্যচাষিদের স্বনির্ভর করে তুলতে নানাবিধ প্রকল্প এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মৎস্যখাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়নই ভবিষ্যতের লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
দিবসটি উপলক্ষে ফিসারি কলেজ প্রাঙ্গণে বসে বিভিন্ন তথ্যপূর্ণ ও প্রযুক্তিনির্ভর স্টল, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মৎস্যচাষিরা তাঁদের উৎপাদিত মাছ, প্রযুক্তি ব্যবহার, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, মাছের পোনা উৎপাদন, জলজ চাষের বিভিন্ন দিক প্রদর্শন করেন।
মন্ত্রী সুধাংশু দাস ও অন্য অতিথিরা স্টলগুলো পরিদর্শন করেন এবং সেখানে চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন।
উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, স্থানীয় উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাও এদিন পরিস্কারভাবে ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানে আয়োজিত হয় একাধিক প্রযুক্তিভিত্তিক ও শিক্ষামূলক সেমিনার, যেখানে বক্তারা মৎস্যচাষের আধুনিক পদ্ধতি, হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা, জৈব উপায়ে মাছ চাষ, জলদূষণ রোধ এবং বাজার সংযোগ ব্যবস্থার উপর বক্তব্য রাখেন।
ফিসারি কলেজের প্রিন্সিপাল অরুণ ভাই পাটেল বলেন,
“এই দিবসটি শুধু উদযাপনের নয়, বরং এটি হচ্ছে আত্মসমীক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিন। ছাত্রদের বাস্তব জ্ঞানের সংস্পর্শে আনা এবং চাষিদের সঙ্গে কলেজের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করাই এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।”
ফিসারি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এদিন নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রজেক্ট প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। জলজ পরিবেশ ও মাছ চাষকে ঘিরে নির্মিত মডেল এবং পোস্টার প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা সকলকে মুগ্ধ করে।
জাতীয় মৎস্য দিবসের এই অনুষ্ঠান শুধু রাজ্যের নয়, বরং গোটা দেশের মৎস্য উন্নয়ন চেষ্টাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয়। সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করলে, রাজ্যে মৎস্য উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থান ও পুষ্টি নিরাপত্তাও সুদৃঢ় হবে।
এই ধরনের অনুষ্ঠান রাজ্যের মৎস্যখাতকে আরও সুসংগঠিত ও আত্মনির্ভর করে তুলবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। প্রশাসন, গবেষণা ও বাস্তব ক্ষেত্র—এই তিনের সমন্বয়েই সম্ভব একটি শক্তিশালী মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।








