খোয়াইয়ে রাস্তার টেন্ডার ঘিরে তীব্র উত্তেজনা: টেন্ডারপ্রাপককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় দায়ের হল অভিযোগ।
খোয়াই প্রতিনিধি, ৬ জুলাই: খোয়াইয়ে রাস্তার টেন্ডারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি খোয়াই পূর্ত দপ্তরের অধীনে চারটি উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডার প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল খোয়াই টিকে রোড থেকে সোনাতলা আইটিআই কলেজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির নির্মাণ কাজ। উক্ত টেন্ডারের বরাত পান স্থানীয় যুবক কঙ্কন ভৌমিক, যিনি খোয়াই শহরেরই বাসিন্দা এবং পিতা নিরোধ ভৌমিকের সন্তান।
তবে টেন্ডার প্রাপ্তির পর থেকেই কঙ্কনকে নানা ধরনের হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কঙ্কনের দাবি, গতকাল রাত আনুমানিক আটটা নাগাদ স্থানীয় দুই ব্যক্তি খোকন রায় ও মনোজিৎ দাস তাঁদের কয়েকজন সহযোগীসহ তাঁর বাড়িতে এসে উপস্থিত হন। সে সময় কঙ্কন নিজে বাড়িতে না থাকায় অভিযুক্তরা তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
অভিযোগ আরও গুরুতর রূপ ধারণ করে যখন জানা যায়, অভিযুক্তরা কঙ্কনের পরিবারকে হুমকি দিয়ে বলেন, “এই কাজ করতে দেওয়া হবে না। করতে চাইলে তিন লক্ষ টাকা দিতে হবে।” এমন স্পষ্ট চাঁদা চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এতে কঙ্কন ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানানো হয়েছে।
পরদিন, অর্থাৎ রবিবার দুপুর তিনটায়, কঙ্কন ভৌমিক খোয়াই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে অভিযুক্তদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। খোয়াই থানার অফিসার-ইন-চার্জ সুবীর মালাকারের উপস্থিতিতে অভিযোগ গ্রহণ করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কঙ্কন ভৌমিক বলেন, “আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। অথচ এখন আমাকে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, এই ঘটনায় যেন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হয় এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।”
স্থানীয় মহলে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে এভাবে দখলদারি বা চাঁদাবাজির প্রবণতা বাড়তে থাকলে সাধারণ ঠিকাদাররা ভবিষ্যতে সাহস করে কাজে নামতে ভয় পাবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সম্প্রতি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠে আসছে। খোয়াইয়ের ঘটনাও তারই ধারাবাহিকতা কিনা, তা সময়ই বলবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপ ছাড়া আতঙ্ক দূর হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয় নাগরিকরা।








