তেলিয়ামুড়ায় ১৫ বছরের নাবালিকা বিয়ে রুখল প্রশাসন! অভিযানে নেতৃত্ব খোয়াই জেলা চাইল্ড প্রটেকশন ইউনিটের।
তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি, ৭ জুলাই:
আবারও এক সচেতনমূলক ও মানবিক পদক্ষেপে নাবালিকা বিবাহের মতো একটি সামাজিক অপরাধ রুখে দিল খোয়াই জেলা চাইল্ড প্রটেকশন ইউনিট। সোমবার তেলিয়ামুড়া থানাধীন মোহড়ছড়া এলাকায় মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক নাবালিকা মেয়েকে জোর করে বিবাহে আবদ্ধ করার চেষ্টার খবর পেয়ে তৎপর হয় প্রশাসন। খবর পাওয়া মাত্রই খোয়াই জেলা চাইল্ড প্রটেকশন ইউনিটের একটি দল, তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশের সহযোগিতায় তড়িৎ অভিযান চালায় এবং ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নাবালিকাকে একই থানার অন্তর্গত মহারানীপুর এলাকার বাসিন্দা ভক্ত দাসের ৩২ বছর বয়সী ছেলে রাহুল দাস তার নিজ বাড়িতে তুলে এনে বিয়ে করতে চাইছিল। বিষয়টি জানাজানি হতেই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
খোয়াই জেলা চাইল্ড প্রটেকশন ইউনিটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের লিগ্যাল কাম প্রফেশন অফিসার প্রশান্ত দেববর্মা, চাইল্ড হেল্প লাইনের কর্মী অপূর্ব ঘোষ, তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ কর্মীরা ও অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। অভিযানে গিয়ে ছেলেটির বাড়ি থেকেই নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে চাইল্ড লাইনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
এই ধরনের পদক্ষেপে সমাজের অনেকেই প্রশাসনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে একইসাথে উদ্বেগের সুরও ধ্বনিত হয়েছে—বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সমাজে যেভাবে নাবালিকা বিবাহের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা ভবিষ্যতে নারীর অধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমন মতামত ব্যক্ত করেছেন সমাজসচেতন একাংশ মানুষ।
প্রসঙ্গত, ভারতীয় আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী কোনও মেয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করে দিল যে, সচেতনতা ও তৎপরতার মাধ্যমেই নাবালিকা বিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।








